ফ্রন্টেক্স সংস্কার: ১০ ইইউ দেশের দাবি – বহিষ্কারে আরও ক্ষমতা, তৃতীয় দেশে আরও উপস্থিতি

4 Min Read

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সকে আরও শক্তিশালী, প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক এবং তৃতীয় দেশগুলোতে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চায় ইইউর দশটি সদস্য রাষ্ট্র। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশিত ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থার সংস্কারকে সামনে রেখে এই দেশগুলো একটি যৌথ প্রস্তাবনা বা ‘নন পেপার’ উপস্থাপন করেছে।

কোন কোন দেশ এই উদ্যোগে?

এই প্রস্তাবনায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো — চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া, গ্রিস, স্পেন এবং মাল্টা। ইউরোপের পূর্ব থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত এই দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় হলেও অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে একই অবস্থান নিয়েছে।

ফ্রন্টেক্সের ভূমিকা হবে “সহায়ক ও পরিপূরক” – অন্য ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর সাথে যেন কোনো দায়িত্বের ওভারল্যাপ না হয়।

নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে 

প্রস্তাবনার মূল বিষয়বস্তু কী?

দেশগুলো স্পষ্ট করেছে যে তারা ফ্রন্টেক্সের সাধারণ ম্যান্ডেটের ব্যাপক বিস্তার চান না। বরং তারা চান বিদ্যমান বিধিমালার মধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন। নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ফ্রন্টেক্সের ভূমিকা হবে “সহায়ক ও পরিপূরক” — অন্য ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর সাথে যেন কোনো দায়িত্বের ওভারল্যাপ না হয়। এমনকি ফ্রন্টেক্সকে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিবাসী স্থানান্তরের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।

বহিষ্কার অভিযান ও তৃতীয় দেশে উপস্থিতি

প্রস্তাবনার কেন্দ্রবিন্দু হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রথমত, অভিবাসী বহিষ্কার বা ‘রিটার্ন অপারেশন’-এর ক্ষেত্রে ফ্রন্টেক্সকে আরও সক্রিয় ও নির্ণায়ক ভূমিকা দেওয়া। দশটি দেশ চায়, সংস্থাটি ইউরোপীয় বহিষ্কার ব্যবস্থার একটি প্রধান পরিচালনামূলক কেন্দ্রে পরিণত হোক — শুধু সমন্বয় নয়, মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নেও।

দ্বিতীয়ত, তৃতীয় দেশগুলোতে, বিশেষত অভিবাসনের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোতে ফ্রন্টেক্সের কার্যক্ষম উপস্থিতি বাড়ানো। লক্ষ্য হলো অভিবাসনের স্রোত ইউরোপের দরজায় পৌঁছানোর আগেই, উৎসমুখেই তা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অংশীদারিত্বের কাঠামো ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা আরও গভীর করার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও স্থায়ী বাহিনী

নথিতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো দাবি করেছে, বাহ্যিক সীমান্ত নজরদারিতে ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আরও ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, নজরদারি ব্যবস্থা ও অবকাঠামো ক্রয়ের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ফ্রন্টেক্সের স্থায়ী বাহিনীর বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব এসেছে নথিতে – জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগ করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি নতুন ‘রিজার্ভ ক্যাটাগরি’ তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই রিজার্ভ বাহিনী কেবল অসাধারণ বা জরুরি পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা হবে, যাতে স্বাভাবিক সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জনবলের ঘাটতি না হয়।

২০২৬ সালের সংস্কার প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

এই ‘নন পেপার’ এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ফ্রন্টেক্স সংস্কার এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি।

দশটি দেশ মূলত চাইছে এমন একটি সংস্থা — যেটি কার্যত আরও সক্ষম ও দ্রুততাসম্পন্ন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এর ম্যান্ডেটের বিস্তার ঘটানো হবে না। বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই সরঞ্জাম ও হস্তক্ষেপের সক্ষমতা শক্তিশালী করা হবে।

আগামী মাসগুলোতে এই বিষয়ে আলোচনা নির্ধারণ করবে — জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ইউরোপীয় সমন্বয়ের মধ্যে কোথায় টানা হবে সীমারেখা। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসী বহিষ্কারের প্রশ্ন যেখানে ইউরোপীয় রাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্র হিসেবেই রয়ে গেছে, সেখানে এই সংস্কারের চূড়ান্ত রূপ কেমন হবে — তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *