ইতালির মিলানে এক তরুণীকে হেনস্তার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন ৫২ বছর বয়সী এক সাহসী বাংলাদেশি প্রবাসী; সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রোমানিয়ান হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
মাদ্রিদ:
ইতালির মিলানে এক অনন্য সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক তরুণীকে বখাটের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকে সাহায্য করার এই ঘটনাটি ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হচ্ছে এবং স্থানীয় মহলে বাংলাদেশি এই ব্যক্তির সাহসিকতা প্রশংসিত হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার কিছু আগে মিলানের পিয়াজ্জা রিসোর্জিমেন্তো (Piazza Risorgimento) সংলগ্ন ভিয়া সিরো মেনোত্তি (Via Ciro Menotti) এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ২৭ বছর বয়সী এক তরুণী যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এক যুবক তাকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকে এবং জোরপূর্বক তার ফোন নম্বর দাবি করে। উত্ত্যক্তকারীর হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেকে নিরাপদ রাখতে তরুণীটি পাশের একটি বহুতল ভবনের সামনে ডিউটিরত কেয়ারটেকারের সাহায্য প্রার্থনা করেন।
৫২ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি কেয়ারটেকার তখন ভবনটির প্রবেশপথের সামনেই অবস্থান করছিলেন। তরুণীর আতঙ্কিত চেহারা দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন। কেয়ারটেকারের শক্ত অবস্থানের কারণে উত্ত্যক্তকারী যুবকটি সেই মুহূর্তে কিছুটা দূরে সরে গেলেও মনে মনে চরম আক্রোশ পোষণ করতে থাকে।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর যখন ওই তরুণী জিমের উদ্দেশ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যান, তখন হামলাকারী যুবক ভবনটির কেয়ারটেকার কেবিনের (Portineria) ভেতরে অতর্কিত প্রবেশ করে। সেখানে সে ওই বাংলাদেশি ব্যক্তির সাথে তরুণী প্রসঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। তর্কের একপর্যায়ে হামলাকারী যুবকটি পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে এবং আচমকা বাংলাদেশি কেয়ারটেকারের কলারবোনের (Clavicola) ঠিক ওপরে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিলান পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড ‘আই ফালকি’ (I Falchi) এবং জরুরি চিকিৎসা বিভাগ ১১৮-এর কর্মীরা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং অপরাধীর হদিস পেতে চিরুনি অভিযান শুরু করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী যুবকটি সামরিক ছাঁটের প্যান্ট (Camouflage), একটি সবুজ টি-শার্ট এবং চোখে রোদচশমা পরে ছিল। এই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে শহরের বিভিন্ন টহল দলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
উন্নত প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় মিলানের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা করসো বুয়েনস আইরেস (Corso Buenos Aires) থেকে হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ৩২ বছর বয়সী ওই রোমানিয়ান নাগরিককে আটকের পর সে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। হামলাকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেয়ারটেকার তাকে ‘অসম্মান’ করার কারণেই সে রাগের মাথায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশি রেকর্ডে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রোমানিয়ান যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে বর্তমানে মিলানের বিখ্যাত সান ভিত্তোরে (San Vittore) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত না হলেও রক্তক্ষরণ হওয়ায় বাংলাদেশি কেয়ারটেকারকে দ্রুত ফাতেবেনেফ্রাতেলি (Fatebenefratelli) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তার অবস্থা এখন বিপদমুক্ত এবং বর্তমানে তাকে ১০ দিনের বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও স্বদেশি কেয়ারটেকারের এমন মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য সবাই গর্ব প্রকাশ করছেন।
মিলানে ২৭ বছর বয়সী তরুণীকে রক্ষা করতে গিয়ে ৫২ বছর বয়সীবাংলাদেশি কেয়ারটেকার ছুরিকাহত হন; সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশ এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার
milano.corriere
করে।


