গ্রিসের আটককেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিচারের মুখোমুখি ২৩ বাংলাদেশি ও মিশরীয় অভিবাসী

3 Min Read

 উত্তর গ্রিসের একটি শরণার্থী শিবিরে বিদ্রোহ ও সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগে আটককৃতদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে; দেশটিতে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ ও অনুপ্রবেশ হ্রাসের মধ্যেই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটলো।

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে পুলিশ ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারের প্রস্তুতি চলছে।

গ্রিসের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘একাথিমেরিনি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ওই আটককেন্দ্রে পুলিশ ও অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিলে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও আটককেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে বাকি দুইজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, সফলভাবে পলায়ন, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করা। ঘটনার সময় ওই বিশেষ আটককেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চারশ আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছিলেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবারের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকজন অভিবাসী কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশি অভিযানে তাদের কয়েকজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ বাকি ব্যক্তিদের সন্ধানে ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সংঘর্ষের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন গ্রিস তাদের অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করেছে। দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে দেশটিতে নতুন অভিবাসীর আগমন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত যেখানে ৬১ হাজার ১১২ জন অভিবাসী গ্রিসে পৌঁছেছিলেন, সেখানে পরবর্তী ১২ মাসে (২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত) এই সংখ্যাটি নেমে এসেছে ৪১ হাজার ৯৯৮ জনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে গ্রিসে প্রায় ২০ হাজার কম অভিবাসী প্রবেশ করেছেন।

গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। প্লেভরিস ইউরোপের কট্টর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে কোনো একটি তৃতীয় দেশে ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, যাদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের সরাসরি ইউরোপ থেকে সরিয়ে ওইসব কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গ্রিসের এই ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থান এবং আটককেন্দ্রগুলোর নাজুক পরিস্থিতি অনেক সময় অভিবাসীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত শনিবারের মতো সংঘর্ষের মাধ্যমে। তবে গ্রিস সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের এই কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটতে নারাজ।

গ্রিসে আটককেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশি ও মিশরীয় ২৩ আশ্রয়প্রার্থী রিমান্ডে; তাদের বিরুদ্ধে পালানো, বিদ্রোহ ও সরকারি সম্পদ ক্ষতির অভিযোগে বিচার চলছে।

infomigrants

Share This Article