ইতালির পেসকারায় চাঁদা দাবি ও স্বদেশীদের মারধর: চার বাংলাদেশিকে শহর ত্যাগের নির্দেশ

3 Min Read

ব্যবসা পরিচালনা ও বসবাসের জন্য ‘প্রোটেকশন মানি’ বা চাঁদা না দেওয়ায় দুই প্রবাসীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে। ইতালীয় পুলিশের তদন্ত শেষে আদালত অভিযুক্তদের পেসকারা শহরে বসবাসের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির পেসকারা (Pescara) শহরে ব্যবসা ও নিরাপদে বসবাসের শর্ত হিসেবে চাঁদা বা ‘প্রোটেকশন মানি’ (pizzo) দাবি করে দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে চার প্রবাসী বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্তের পর আদালত অভিযুক্তদের ওই শহরে বসবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ রাতের বেলা পেসকারা শহরের ভিয়া পিয়াভে (Via Piave) এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় ২৯ ও ৩৬ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশি যুবককে রাস্তায় আটকে চল্লিশোর্ধ্ব কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি অতর্কিত হামলা চালায়। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কেবল কোনো সাধারণ মারামারির ঘটনা ছিল না। মূলত পেসকারা শহরে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা এবং সেখানে বসবাস করার বিনিময়ে ওই দুই যুবকের কাছে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল অভিযুক্তরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের ওপর এই সহিংস হামলা চালানো হয়।

হামলায় ভুক্তভোগী ওই দুই প্রবাসী গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই তাদের পেসকারার এস. স্পিরিতো হাসপাতালের (Ospedale S. Spirito) জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জানান, আহতদের মধ্যে একজনের সুস্থ হতে অন্তত সাত দিন এবং অপরজনের ক্ষেত্রে এক মাস বা ত্রিশ দিন সময় লাগবে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরপরই ইতালীয় সামরিক পুলিশ ক্যারাবিনিয়ারির বিশেষ শাখা ‘নিউক্লিও অপেরটিভো এ রেডিওমোবাইল’ (Carabinieri del Nucleo Operativo e Radiomobile)-এর তদন্তকারী কর্মকর্তারা মাঠে নামেন। রাতের বেলায় শহুরে পরিবেশে ঘটা এই অপরাধের কিনারা করতে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হামলায় জড়িত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী চার বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে (Procura della Repubblica) অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ।

পরবর্তীতে এই ঘটনার আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে শুধু শারীরিক আঘাতই নয়, বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির (tentata estorsione) বিষয়টিও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তকারী দল তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হস্তান্তর করলে, প্রসিকিউটর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

সবশেষ গত ২৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে পেসকারা আদালতের প্রিলিমিনারি ইনভেস্টিগেশন জাজ বা জিআইপি (Giudice per le Indagini Preliminari – GIP) এই মামলার রায় দেন। রায়ে চাঁদাবাজি ও হামলার দায়ে অভিযুক্ত ওই চার বাংলাদেশিকে পেসকারা পৌরসভা এলাকায় বসবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা (divieto di dimora) আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ প্রবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের একটি কঠোর বার্তা বহন করে।


পেসকারায় ২৭ এপ্রিলের হামলার ঘটনায় চার বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আহত করা ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ; ২৪ আগস্ট আদালত তাদের শহরে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ecoaltomolise

Share This Article