ইতালির কালাব্রিয়ায় কৃষিশ্রমিকের তীব্র সংকট: ঝুঁকিতে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে বিদেশি কর্মী নির্ভরতা

3 Min Read

মৌসুমি অনিশ্চয়তা, তীব্র দাবদাহ ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে সংকটে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়ার কৃষি খাত; উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অভিবাসী শ্রমিক ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল কালাব্রিয়ার কৃষিখাতে দিন দিন তীব্র হচ্ছে মাঠপর্যায়ের শ্রমিকের সংকট। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেবল ফসল তোলার উপযুক্ত মানুষের অভাবে মাঠের পাকা ফলন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় খামার মালিকরা। দেশটির জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা ইনপিএস (INPS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি গবেষণা পরিষদ ‘ক্রিয়া’ (CREA)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে মোট কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৯৪ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ হাজার ২১ জন কম। একই সঙ্গে মোট কাজের দিন বা কর্মদিবসের সংখ্যাও প্রায় তিন লাখ কমে ৮৭ লাখে নেমে এসেছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় কর্মীর অভাবে কালাব্রিয়ার কৃষিব্যবস্থা এখন কাঠামোগতভাবেই অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রতি চারজন কৃষিশ্রমিকের মধ্যে একজনই বিদেশি, যা মোট কর্মীবাহিনীর ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে ২১ হাজার ৮৮৮ জন বিদেশি কর্মী নিয়োজিত ছিলেন, যারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০ লাখ কর্মদিবস কাজ সম্পন্ন করেছেন। শীর্ষ কৃষি সংগঠন ‘কোলদিরেত্তি’ (Coldiretti)-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন পিক মৌসুমে ফলমূল, শাকসবজি ও খাদ্যশস্য সংগ্রহের কাজে ৩২ হাজারের বেশি কর্মীর প্রয়োজন হয়, যার সিংহভাগই বিদেশি জনবল। ফলে ইতালির বার্ষিক কর্মী আগমন কোটা ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi)-র ওপর এই খাতের উৎপাদন বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মী সংকটের পেছনে মজুরির তুলনায় কাজের ধরন ও অনিশ্চয়তা বেশি ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মের ভয়াবহ দাবদাহে কৃষিকাজ পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার ফলে বিপজ্জনক সময়ে কাজ বন্ধ রেখে শিফট পুনর্নির্ধারণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় তরুণদের অনেকেই কৃষির কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে লজিস্টিকস, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবা খাতের দিকে ঝুঁকছেন। যদিও তরুণদের অংশগ্রহণ কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও আধুনিক সেচ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েই গেছে। এছাড়া মাত্র কয়েক সপ্তাহের মৌসুমি কাজের জন্য শ্রমিকদের বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের স্থায়ীভাবে ধরে রাখা খামারগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সংকট কাটাতে ২০২৬–২০২৯ সালের জাতীয় কৃষি চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং একই খামারে পুনরায় কাজ করার ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক সুবিধার মতো উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে শ্রমিক ঘাটতির সুযোগে যেন কোনো প্রকার শোষণ বা অবৈধ মধ্যস্থতা অর্থাৎ ‘কাপোরালাতো’ (Caporalato) বিস্তার লাভ না করে, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে আঞ্চলিক প্রশাসন। কৃষি সংগঠন ‘চিয়া কালাব্রিয়া’ (Cia Calabria)-র মতে, একদিকে উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি ও পণ্যের ন্যায্যমূল্যের অভাব, অন্যদিকে কর্মীদের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি খামার মালিকদের দ্বিমুখী চাপে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু কাজ সহজ হলেও সংবেদনশীল ফল ও সবজি সংগ্রহের জন্য মানুষের বিকল্প নেই; তাই প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এখন সময়ের মূল দাবি।


২০২৪ সালে ক্যালাব্রিয়ায় কৃষিশ্রমিক কমেছে ৩ হাজারের বেশি; মোট শ্রমিকের ২৫.৮% বিদেশি। শ্রমিক সংকট, বার্ধক্য ও চরম তাপ কৃষি উৎপাদনের ভবিষ্যৎকে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ করছে।

calabrianews24

Share This Article