রোম ও কায়রোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় চলতি বছরে মিশরে পরিচালিত হলো ১৭তম বিশেষ ফ্লাইট; এ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো অনিয়মিত নাগরিকের সংখ্যা ছাড়াল চারশত।
ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত বহিষ্কারে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকা ১৯ জন মিশরীয় নাগরিককে একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে ইতালি থেকে সরাসরি রাজধানী কায়রোতে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। রোমের কেন্দ্রীয় অভিবাসন অধিদপ্তর ও সীমান্ত পুলিশের (Direzione centrale dell’Immigrazione e della Polizia delle frontiere) সমন্বিত উদ্যোগে বিশেষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাহারায় এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশ বিভাগের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কড়া নিরাপত্তায় ফেরত পাঠানো এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশের নথিতে একাধিক অভিযোগ ও পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তি আক্রমণ ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলার পরই তাঁদের দেশত্যাগে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে জননিরাপত্তা রক্ষা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, মিশর সরকারের সঙ্গে ইতালির চমৎকার কূটনৈতিক বোঝাপড়া ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক অভিবাসন চুক্তির ফলেই এত দ্রুততার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, সাগর বা আকাশপথে অনিয়মিতভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী মিশরীয় নাগরিকদের দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে পুনরায় গ্রহণ (রিঅ্যাডমিশন) করে থাকে কায়রো। এই চুক্তির অন্যতম বিশেষ বিধান হলো, যেসব ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের নাগরিকত্ব ও প্রকৃত পরিচয় শনাক্তকরণের আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়াটি সরাসরি মিশরের মাটিতেই সম্পন্ন করার অনুমোদন রয়েছে। ফলে পরিচয় যাচাইয়ের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মধ্য দিয়ে চলতি ২০২৬ সালে ইতালি থেকে মিশরে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭টিতে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪০০ জন অনিয়মিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত মিশরীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল রোম প্রশাসন। এর আগের বছর, অর্থাৎ বিগত ২০২৫ সালে মোট ১৮টি চার্টার ফ্লাইটে ৪৫৪ জন মিশরীয়কে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল। ফলে স্পষ্টভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিগত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও একই গতিতে বহিষ্কার কার্যক্রম সচল রেখেছে ইতালি সরকার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিরাগত সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং অনিয়মিত অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বর্তমান ইতালীয় প্রশাসনের যে কঠোর অবস্থান রয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করে অনিয়মিতভাবে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন, তাঁদের কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন মডেল আরও জোরদার করছে রোম।
২০২৬ সালে ইতালি থেকে মিশরে ১৭টি চার্টার ফ্লাইটে মোট ৪০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; সর্বশেষ অভিযানে অপরাধের রেকর্ড থাকা ১৯ মিশরীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়।
ansa


