ট্রেভিজো কারাগারে সঙ্গীর কারামুক্তি উদযাপনে নেচে ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছে প্রসিকিউটর দপ্তর; চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি।
ইতালির ভেনিস সংলগ্ন ট্রেভিজো শহরের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাচগানের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত সমাপ্ত করেছে স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয়। আলোচিত এই অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক ইতালীয় তরুণকে হত্যার দায়ে বিচারাধীন দুই প্রধান আসামি এবং ইতালি থেকে বহিষ্কৃত ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি ট্র্যাপার (র্যাপ সংগীতশিল্পী)। স্থানীয় শীর্ষ গণমাধ্যম ইল গাজেত্তিনো, লা ত্রিবুনা দি ট্রেভিজো এবং কোরিয়েরে দেল ভেনেতোর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কারাগারের একটি সেলে এক সহবন্দির মুক্তির আনন্দ উদযাপনে জড়ো হয়েছিলেন অভিযুক্তরা। সেখানে ‘ট্র্যাপ’ ঘরানার সংগীতের তালে নেচে মোট তিনটি ভিডিও তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সুরক্ষিত কারাগারের সেলে বন্দিদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছানো এবং ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে ভিডিও পোস্ট করার এই ঘটনা ইতালির কারা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের গলদ হিসেবে প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনাটির সার্বিক তদন্ত শেষে ট্রেভিজোর প্রসিকিউটর জিউলিয়া রিজো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম বন্ধের (chiusura delle indagini) নোটিশ জারি করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারাবন্দি অবস্থায় অবৈধভাবে মোবাইল বা যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার ও সংরক্ষণের (accesso indebito a dispositivi idonei alla comunicazione) অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতালির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কারাগারে অবৈধ ডিভাইস ব্যবহারের এই গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের ১ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে।

তদন্তের আওতায় আসা পাঁচজনের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী রিকার্দো অ্যাঞ্জেলো ওজুনা এবং ২২ বছর বয়সী তোলুওয়ালোজু এমক্লিংকসপল আদে অন্যতম। তাঁরা দুজনই ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ট্রেভিজোতে মারামারির ঘটনায় ফ্রান্সেস্কো ফাভারেত্তো (২০) নামের এক স্থানীয় তরুণকে হত্যার দায়ে বর্তমানে দেশটির আসিস আদালতে (Corte d’assise) বিচারাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া এই ভিডিও কাণ্ডে অপর অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইতালি থেকে ইতিমধ্যে বিতাড়িত ও বাংলাদেশে প্রত্যাবাসিত হওয়া ট্র্যাপার শাকিল আহমেদ ওরফে ‘চাকালোকো’ (২৬), আইভরি কোস্টের নাগরিক ইসমায়েল দাহ (২২) এবং সেনেগালের নাগরিক মুসা দিয়েং (২২)।
প্রতিবেদনে প্রকাশ, আলোচিত ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই ফাভারেত্তো হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন প্রধান অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে পরবর্তী শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁরা এই অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের জন্য আদালতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের ক্ষমা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ বন্দিশালা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের কারাভ্যন্তরে কঠোর আইসোলেশন বা একাকী কারাবাস সেলে বন্দি রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশনের তদন্ত শেষ হওয়ায় এখন দ্রুতই তাঁদের এই অপরাধের জন্য নতুন করে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ট্রেভিজো কারাগারে বন্দিদের সেলে গোপনে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে প্রসিকিউটর; অভিযোগে ১ থেকে ৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
ansa


