রোমে এফএওর বিশ্ব খাদ্য ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ: স্বীকৃতি পেলেন নারী ও তরুণ কৃষিযোদ্ধারা

3 Min Read

জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার অঙ্গীকার নিয়ে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশ নিল বাংলাদেশ; স্বীকৃতি অর্জন করেছেন দেশীয় নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ প্রতিনিধিরা।

রিপোর্টঃ মিনহাজ হোসাইন
ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা—এফএও (Food and Agriculture Organization)-র আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬’-এ সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকট মোকাবিলা, টেকসই কৃষিব্যবস্থার বিস্তার এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তা নিয়ে ফোরামে যোগ দেয় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং এফএওতে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি এ.টি.এম রকিবুল হকের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণী আলোচনায় দেশের অবস্থান তুলে ধরে।

এবারের সম্মেলনের মূল দর্শন নির্ধারণ করা হয়েছিল “ইনোভেশন টুডে, নারিশ টুমরো” (Innovate Today. Nourish Tomorrow), যার মূল কথা হলো আজকের উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে আগামী দিনের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা। ফোরামে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে সনাতন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যব্যবস্থাকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সম্মেলনের বিশেষ এক অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত করেন বিলকিস খাতুন। খাদ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এফএও তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করে। সংস্থাটির ‘১০০ উইমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের ৯৬টি সদস্যরাষ্ট্রের ১০০ জন অনন্য সাধারণ নারীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের বিলকিস খাতুন জায়গা করে নেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্যব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে নারীদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই পুরস্কার তারই এক জোরালো প্রমাণ।

খাদ্য রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে ফোরামের আওতায় পরিচালিত ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফোরাম’-এ বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ৩৫টি নতুন ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ চ্যাপ্টার’ বা জাতীয় যুব শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই বৈশ্বিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের মেধা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা উপস্থাপন করেন। কৃষি খাতে তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাধারাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিষয়টি ফোরামে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা দেশের কৃষিখাতের রূপান্তর, মাঠপর্যায়ের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই ফোরাম বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণে খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা ও কৃষিতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

banglapost

Share This Article