ইতালিতে ঘুমন্ত স্বামীর অঙ্গহানি মামলায় আদালতে স্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, নাকচ করলেন আইনজীবীরা

3 Min Read

নোচেরা ইনফেরিওরে আদালতে শুনানিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পারিবারিক কলহ এমন বর্বরতাকে সমর্থন করে না বলে কঠোর অবস্থান ভুক্তভোগীপক্ষের।

ইতালির কাম্পানিয়া অঞ্চলের নোচেরা ইনফেরিওরে (Nocera Inferiore) আদালতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক প্রবাসীর ঘুমন্ত অবস্থায় পুরুষাঙ্গ কর্তনের চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত স্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে অভিযুক্ত নারী তার আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, কারাগারে কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ভুক্তভোগী স্বামী ও তার পরিবারকে আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত। তবে শুনানিতে উপস্থিত ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবীরা এই ক্ষমার আবেদনকে স্ববিরোধী ও তাৎপর্যহীন আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিকালে আসামিপক্ষের উত্থাপিত কিছু তদন্তমূলক ও পদ্ধতিগত আবেদন বিচারক প্যানেল সরাসরি খারিজ করে দেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা শুনানিতে স্পষ্ট জানান, অভিযুক্তের এই দেরিতে আসা অনুশোচনা ও আর্থিক প্রতিশ্রুতির কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না। তারা এটিকে কঠোর শাস্তি এড়ানোর অপকৌশল হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের কাছে ভুক্তভোগী ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ শারীরিক নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান।

শুনানিতে আসামিপক্ষের কৌঁসুলিরা দাবি করার চেষ্টা করেন যে, হামলার ঠিক পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক বাকবিতণ্ডা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার জের ধরেই চরম ক্ষোভের বশে এই ঘটনা ঘটে। তবে এই যুক্তিকে আদালতকক্ষে তীব্র ভাষায় নাকচ করেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের প্রধান আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি (Angelo Pisani) এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পক্ষের আইনজীবী ফ্রান্সেসকো পাওলো লাউদিসিও ও রিতা রনকি। আইনজীবীদের মতে, প্রথমে একটি সাধারণ কলহের দোহাই দিয়ে ঘটনাকে হালকা করা এবং পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব তোলা স্পষ্টতই একটি বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান। তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যেকোনো ধরণের পারিবারিক বিরোধ থাকুক না কেন, তা কোনো অবস্থাতেই এমন পৈশাচিক ও পরিকল্পিত শারীরিক সহিংসতাকে বৈধতা বা ন্যায্যতা দিতে পারে না।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১ মে, ইতালির সালের্নো প্রদেশের আংগ্রি (Angri) শহরে। সেখানে একটি বাসায় ৪১ বছর বয়সী বাংলাদেশি প্রবাসী মিজানুর রহমান তার ৪৫ বছর বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে মিজানুরকে অচেতন করে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তিনি যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে আসে, মিজানুর রহমানের প্রথম স্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে এনে ইতালির একই বাসায় রাখার পরিকল্পনা ঘিরেই পারিবারিক কলহের সূত্রপাত হয়েছিল। স্বামীর এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে চরম ক্ষোভ থেকেই অভিযুক্ত নারী এমন রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপ নেন বলে এর আগে দাবি করেছিলেন। বর্বরোচিত এ হামলায় মারাত্মক জখম মিজানুরকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঘুমন্ত স্বামীকে অচেতন করে অঙ্গহানির অভিযোগে অভিযুক্ত স্ত্রী আদালতে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও, আইনজীবীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, সুরক্ষা ও সহায়তা চেয়েছেন।

salerno.corriere

Share This Article