ইতালির বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের ‘আইরে’ নিবন্ধন নিয়ে নতুন আইন: নিয়ম ও জরিমানা সম্পর্কে যা জানা জরুরি

4 Min Read

বিদেশে বসবাসরত ইতালীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার, পাসপোর্ট নবায়ন ও কূটনৈতিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘আইরে’ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; নতুন আইন ও সময়সীমা অমান্য করলে গুনতে হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা।

ইতালির বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘আইরে’ (A.I.R.E. – Anagrafe degli Italiani Residenti all’Estero) সংক্রান্ত কার্যক্রমে নতুন কিছু নিয়মাবলী অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ২০২৬ সালের ১১ নম্বর আইনের আওতায় বিদেশে বসবাসরত ইতালীয় নাগরিকদের জনসংখ্যা রেজিস্টার এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এই সংস্কার আনা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের মূল আইনের ভিত্তিতে চালু থাকা এই ব্যবস্থাটি বর্তমানে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ ‘আন্প্র’ (ANPR)-এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত, যা সংশ্লিষ্ট মিউনিসিপ্যালিটি বা পৌরসভাগুলোর (Comune) মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

আইন অনুযায়ী, কোনো ইতালীয় নাগরিক যদি স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে (১২ মাসের বেশি সময়) বসবাসের উদ্দেশ্যে বিদেশে যান, তবে বাসস্থান স্থানান্তরের ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের ইতালীয় কনস্যুলেটের মাধ্যমে আইরে-তে নাম নিবন্ধন করা তার জন্য বাধ্যতামূলক। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যক্তির নাম ইতালির স্থানীয় আবাসিক রেজিস্টার (APR) থেকে বাদ দিয়ে প্রবাসী রেজিস্টারে স্থানান্তর করা হয়। বিদেশে অবস্থানকালে রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা গণভোটে ডাকযোগে ভোট প্রদান, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নতুন পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা পেতে হলে আইরে নিবন্ধন থাকা আবশ্যক। তবে ১২ মাসের কম সময়ের জন্য প্রবাসে অবস্থানকারী, মৌসুমি শ্রমিক কিংবা কূটনৈতিক মিশনে কর্মরতদের জন্য এই বাধ্যবাধকতা নেই।

আইরে নিবন্ধনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে সম্পন্ন করা যায়। এর জন্য ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন কনস্যুলার সেবা পোর্টাল ‘ফাস্ট-ইট’ (Fast-It)-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের ক্ষেত্রে সঠিক বর্তমান ঠিকানা এবং পরিবারের সকল সদস্যের প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করা জরুরি। আবেদন কোনো কারণে অসম্পূর্ণ থাকলে কনস্যুলেট পোর্টালের মাধ্যমে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় বেঁধে দেয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। কনস্যুলেট নথিপত্র যাচাই শেষে সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীর ইতালির সর্বশেষ পৌরসভার কার্যালয়ে তথ্য পাঠিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নিবন্ধনের জন্য বাবা-মা উভয়ের স্বাক্ষর ও সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে আইরে নিবন্ধন না করলে কিংবা বাসস্থানের ঠিকানা পরিবর্তন হলে তা না জানানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বড় অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করতে পারে। এছাড়া প্রবাসে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দ্রুত আপডেট না করলে নাগরিকদের সাথে দূতাবাস যোগাযোগ করতে পারে না এবং নির্বাচনি ব্যালট পেপার পাঠানো সম্ভব হয় না। এমনকি দীর্ঘকাল প্রবাসীর কোনো সন্ধান না মিললে বা ঠিকানা হালনাগাদ না থাকলে তাকে ‘অনুপলব্ধ’ (untraceable) হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারি তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হতে পারে।

ইতালির পাসপোর্টধারী বহু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ কিংবা বাংলাদেশে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই অজ্ঞতাবশত আইরে নিবন্ধন কিংবা ঠিকানা পরিবর্তন করেন না। এর ফলে কনস্যুলার সেবা নেওয়া, পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের সময় তাদেরকে নানা জটিলতা ও আইনি জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি প্রবাসজীবন শেষে ইতালিতে স্থায়ীভাবে ফিরে গেলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় গিয়ে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার আইনি নিয়ম রয়েছে।

বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ইতালীয় নাগরিকদের AIRE নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; ৯০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে প্রশাসনিক জরিমানার মুখে পড়তে পারেন, আর নিবন্ধনটি গুরুত্বপূর্ণ কনস্যুলার, ভোটাধিকার ও সরকারি সেবা পাওয়ার পূর্বশর্ত।

esteri.it

Share This Article