ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ ২৮ শতাংশ কমেছে বলে ইতালি সরকার দাবি করলেও সীমান্তবর্তী ত্রিয়েস্তে শহরে তা উল্টো ৩১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো; শহরটি এখন মূলত ইউরোপে যাওয়ার ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
ইতালি ও ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান স্থলপথ ‘বলকান রুট’ দিয়ে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন নিয়ে দেশটির সরকার ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই রুটে সামগ্রিক অভিবাসী প্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে দাবি করা হলেও, সীমান্তে সরাসরি সহায়তায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো বলছে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইতালির সীমান্তবর্তী শহর ত্রিয়েস্তেতে (Trieste) অভিবাসী আগমন হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি (Matteo Piantedosi) পোর্দেনোনে (Pordenone) আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সরকারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে বলকান রুট দিয়ে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা অন্তত ২৮ শতাংশ কমেছে। ইতালীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ভিমিনালে (Viminale)-এর মতে, ইতালি ও স্লোভেনিয়া সীমান্তের নজরদারির তথ্যও সামগ্রিক অভিবাসী প্রবাহ কমার এই ধারাকে সমর্থন করে। তবে ওই ঘোষণায় স্থানীয়ভাবে ত্রিয়েস্তে শহরের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পৃথক পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি।

সরকারি এই পরিসংখ্যানের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থা আইআরসি (International Rescue Committee – IRC) এবং দিয়াকোনিয়া ভালদেসে (Diaconia Valdese)। ত্রিয়েস্তের মূল প্রবেশদ্বার পিয়াৎসা লিবের্তায় (Piazza Libertà) নিয়মিত ত্রাণ ও প্রাথমিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত এই সংগঠন দুটি এক যৌথ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একই সময়কালে সেখানে অভিবাসীদের আগমন প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। তাদের মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, বলকান অঞ্চল পার হয়ে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩৫ জন অভিবাসী শহরটিতে পৌঁছাচ্ছেন, যাদের মধ্যে গড়ে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু।
সংস্থাগুলো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ত্রিয়েস্তে শহরটি এখন আর অভিবাসীদের অবস্থানের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি ইউরোপের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার একটি ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। গত আগস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানায়, কেবল ওই এক মাসেই ১ হাজার ৮৬ জন অভিবাসীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ শতাংশ (৪৫৬ জন) জানিয়েছেন যে তারা ইতালি ছেড়ে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে চলে যেতে চান। এছাড়া ৩৪ শতাংশ (৩৬৯ জন) অভিবাসীর লক্ষ্য ছিল ইতালির অন্যান্য বড় শহরে যাওয়া। স্থানীয়ভাবে কেবল ত্রিয়েস্তেতেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন মাত্র ৭ শতাংশ (৭৬ জন) মানুষ, আর বাকি ১৭ শতাংশ তাদের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
মাঠপর্যায়ের সংস্থাগুলোর এই বিশদ তথ্যের বিপরীতে স্থানীয় সরকারি পরিসংখ্যান না থাকায় একটি বড় ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের তুলনামূলক যাচাই এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, কারণ ত্রিয়েস্তেতে প্রকৃত অভিবাসী আগমনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও স্থানীয় সরকারি প্রশাসনিক দপ্তর ‘প্রেফেত্তুরা’ (Prefettura) কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি। ফলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ফারাক।
বালকান রুটে অনিয়মিত আগমন নিয়ে ভিন্ন চিত্র: ইউরোপজুড়ে ২৮% কমার দাবি থাকলেও ত্রিয়েস্তেতে স্থানীয় সংস্থার হিসাবে আগমন ৩১% বেড়েছে; আগস্টে ১,০৮৬ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
rainews


