ইতালিতে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাংলাদেশি যুবককে দেশে ফেরত: ৩ বছরের শেনজেন নিষেধাজ্ঞা

3 Min Read

ক্রোতোনের প্রেফেক্টের বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়নে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর থেকে তাকে সরাসরি ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে; অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রদেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়া বিভাগের ক্রোতোনে (Crotone) প্রদেশ থেকে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র না থাকায় ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির রাজ্য পুলিশ (Polizia di Stato)। স্থানীয় প্রাদেশিক গভর্নরের (প্রেফেক্ট) জারি করা একটি প্রশাসনিক বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত ওই যুবকের ওপর পরবর্তী তিন বছরের জন্য ইতালি ছাড়াও সমগ্র শেনজেন মুক্ত চলাচল অঞ্চলে প্রবেশের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ক্রোতোনে প্রদেশের পুলিশ কমিশনার (কুয়েস্তরে) রেনাতো পানভিনোর বিশেষ নির্দেশনায় অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ ও বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি পরিচালিত সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্রোতোনে পুলিশ সদর দপ্তরের ইমিগ্রেশন বিভাগ (উফিচো ইমিগ্রাৎসিওনে) ওই বাংলাদেশি যুবকের প্রশাসনিক নথি পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত করে যে, ইতালিতে বৈধভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসন আইনে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় শর্তাবলি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে দেশটিতে অবস্থানের জন্য তার অনুকূলে কোনো বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা স্টে পারমিট (পেরমেসসো দি সোজ্জোর্নো) ছিল না।

তদন্ত কর্মকর্তাদের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ওই তরুণ ২০২৪ সালে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অনিয়মিত পথে ইতালিতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) জন্য আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, তিনি পরবর্তীতে সেই সুরক্ষার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়াটি আর এগিয়ে নেননি এবং প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ফলে ইতালির অভিবাসন নীতি অনুযায়ী দেশটির ভূখণ্ডে তার অবস্থান পুরোপুরি অনিয়মিত ও অবৈধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রোতোনের প্রেফেক্ট অবিলম্বে তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন। যুবকের বৈধ পাসপোর্ট প্রস্তুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশি পাহারায় তাকে রাজধানী রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ফিউমিচিনো) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নিজ দেশের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে তুলে দিয়ে তার প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ইতালির অভিবাসন নথিতে তাকে তালিকাভুক্ত করে তিন বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়, যার ফলে এই নির্দিষ্ট মেয়াদে তিনি শেনজেনভুক্ত কোনো দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না।

ক্রোতোনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পুরো প্রদেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে চলমান নিয়মিত ও বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশিরই একটি অংশ। স্থানীয় অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিচয় এবং নথিপত্রের নিয়মিততা যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের শাসন সমুন্নত রাখতেই এই কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

কাগজপত্রের বৈধতা না থাকায় ক্রোটোনায় ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে ইতালি থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে; ইতালি ও শেনজেনে তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

ilcrotonese

Share This Article