এক বছরে অভিবাসী জনসংখ্যা বেড়েছে চার শতাংশ এবং নতুন ব্যবসা বাড়লেও ‘পেরমেসো দি সোজ্জোর্নো’ নবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি চরমে।
ইতালির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পিয়েমোনতে (Piemonte) অঞ্চলে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র আইডস-এর (Centro studi Idos) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪ শতাংশ বেড়ে মোট চার লাখ ৬২ হাজারে পৌঁছেছে। এর ফলে পিয়েমোনতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশই এখন বিদেশি বংশোদ্ভূত, যা দেশটির জাতীয় গড় হারের (৯.৪ শতাংশ) চেয়েও বেশি।
প্রতিবেদনটিতে অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক বিন্যাস তুলে ধরে বলা হয়েছে, পিয়েমোনতে বসবাসরত মোট অভিবাসীর অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রীভূত রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী তুরিনের মেট্রোপলিটন এলাকায় (Città metropolitana di Torino)। তবে স্থানীয় মোট বাসিন্দাদের অনুপাতে বিদেশিদের সর্বোচ্চ ঘনত্বের দিক থেকে সবার শীর্ষে রয়েছে আলেসান্দ্রিয়া (Alessandria)। এরপরই পর্যায়ক্রমে অবস্থান করছে আস্তি (Asti) ও নোভারা (Novara) জেলা। অঞ্চলটিতে বসবাসকারী প্রধান বিদেশি কমিউনিটিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রোমানিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, চীন এবং নাইজেরিয়ার নাগরিকরা।
আইডসের গবেষণার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জোরালো ভূমিকা। পিয়েমোনতের বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি তিনজনের দুজনই ইতালির মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, অঞ্চলটিতে অভিবাসীদের দ্বিতীয় প্রজন্ম সমাজে গভীর শিকড় বিস্তার করছে এবং স্থায়ী ভিত্তির ওপর নিজেদের সামাজিক অবস্থান গড়ে তুলছে।

শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক অবদানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিয়েমোনতের সামগ্রিক কর্মসংস্থানে প্রতি দশজন কর্মীর মধ্যে একজন বিদেশি, যার মধ্যে ৪১ শতাংশই নারী। তাদের একটি বড় অংশ যুক্ত রয়েছে গৃহস্থালি ও পরিচর্যা সেবা খাতে (Lavoro domestico)। অর্থনীতিতে প্রবাসীদের এই ভূমিকা তুলে ধরে আইডস-এর সভাপতি লুকা দি শিউল্লো (Luca Di Sciullo) মন্তব্য করেন, অভিবাসীদের দেওয়া অপরিহার্য অবদান ছাড়া ইতালির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীল খাত পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ত। শুধু সাধারণ শ্রম নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও বিদেশিরা এগিয়ে যাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে অঞ্চলটিতে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রতি চারটির একটি নারী উদ্যোক্তারা পরিচালনা করছেন।
অর্থনীতিতে এমন অসামান্য অবদান সত্ত্বেও অভিবাসীদের পথচলা এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়। একদিকে বিদেশিদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬.৫ শতাংশে ঠেকেছে, যা স্থানীয় ইতালীয়দের (৪.৬ শতাংশ) তুলনায় চার গুণেরও বেশি। অন্যদিকে সামাজিক সংহতি ও কর্মক্ষেত্রের স্থিতিশীলতায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ইতালিতে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র বা ‘পেরমেসো দি সোজ্জোর্নো’ (Permesso di Soggiorno) নবায়ন করতে প্রবাসীদের ক্ষেত্রবিশেষে এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ প্রবাসী কর্মীদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও প্রতিনিয়ত প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
পিয়েমন্তেতে এক বছরে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪% বেড়ে ৪ লাখ ৬২ হাজারে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার ১১%; তাদের অর্ধেকের বেশি তুরিনে, আর বিদেশি শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ ইতালিতেই জন্মেছে।
TGR


