শহরের কেন্দ্রস্থলে পত্রিকাবিক্রেতাকে মারধরকারী চিহ্নিত অপরাধীসহ গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত দুই ব্যক্তিকে রোম বিমানবন্দর থেকে চার্টার ফ্লাইটে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লম্বার্দিয়া অঞ্চলের বেরগামো শহরে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুই অনিয়মিত পাকিস্তানি নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির রাজ্য পুলিশ (Polizia di Stato)। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বহিস্কৃতদের একজন বেরগামো শহরের কেন্দ্রস্থলে এক পত্রিকাবিক্রেতাকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করে জাতীয় গণমাধ্যমে কুখ্যাত হয়ে উঠেছিল। অন্যজন মাদক ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে স্থানীয় আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।
বেরগামো পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই নির্বাসন অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ প্রথমে ওই দুই ব্যক্তিকে বেরগামো থেকে রাজধানী রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা ফিউমিচিনোতে (Roma Fiumicino) নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অভিবাসন অধিদপ্তরের (Direzione Centrale dell’Immigrazione) তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় পুলিশ বাহিনীর সাথে যৌথভাবে পরিচালিত একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তুলে দিয়ে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত প্রথম ব্যক্তির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বা ‘পেরমেসো দি সোজ্জোর্নো’ (Permesso di Soggiorno) নবায়নের আবেদন আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। বেরগামো আদালত (Tribunale di Bergamo) তার বিরুদ্ধে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা এবং চোরাই পণ্য মজুতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক বছর দশ মাসের কারাদণ্ড দেয়। এই সাজার কারণেই তার বৈধ থাকার অধিকার বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বেরগামোর প্রিফেক্ট (Prefetto) তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন, যা স্থানীয় পিস কোর্টের বিচারক বা ‘জিউদিচে দি পাচে’ (Giudice di Pace) দ্বারা আইনিভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, একই বিমানে ফেরত পাঠানো দ্বিতীয় পাকিস্তানি নাগরিকের ইতালিতে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছিল না এবং তিনি ভাসমান বা গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। শহরের লার্গো বেলোত্তি (Largo Belotti) এলাকার এক পত্রিকাবিক্রেতাকে ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা করার ঘটনায় তার নাম স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এই নির্যাতন ছাড়াও তার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে মারামারি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র বহনের একাধিক মামলা ছিল। শহরের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করায় বেরগামোর প্রিফেক্টের আদেশে তাকে সরাসরি অভিবাসন প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা সিপিআর-এ (Centro di permanenza per i rimpatri – CPR) বন্দি রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই তাকে সরাসরি বিমানবন্দর হয়ে বহিষ্কার করা হয়।
এই অভিযানের মধ্য দিয়ে বেরগামো রাজ্য পুলিশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং আইন অমান্যকারী অনিয়মিত বিদেশিদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে প্রবাসীদের জন্য অপরাধমুক্ত থাকা এবং বৈধ কাগজপত্র বজায় রাখা কতটা জরুরি, এই ঘটনা তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়। ইতালিজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ কার্যকর করা হলো।
বার্গামোতে দুই অনিয়মিত পাকিস্তানি নাগরিককে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইতালির পুলিশ; তাদের একজনের বিরুদ্ধে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুরুতর অপরাধের সাজা ছিল।
utenti.ecodibergamo


