২০২৫ সালে দেশটিতে কর্মস্থল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা কমে দাঁড়ালেও সার্বিক দুর্ঘটনা এবং পেশাগত অসুস্থতার অভিযোগ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে; হতাহত পরিবারের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা সরকারের।
ইতালির কর্মক্ষেত্রে ২০২৫ সালে প্রাণহানির সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও সামগ্রিক দুর্ঘটনা ও পেশাগত অসুস্থতার অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতালির জাতীয় কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা বীমা সংস্থা ইনাইল (INAIL)-এর সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ১৮৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কম। এছাড়া শিক্ষানবিস বা কর্মমুখী প্রশিক্ষণে থাকা ৯ জন শিক্ষার্থীও প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বছরটিতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৮ জনে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্বিক প্রাণহানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনার মোট অভিযোগ ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৯ হাজার অভিযোগ সরাসরি সাধারণ কর্মীদের এবং ৮১ হাজার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়। কর্মস্থলে সরাসরি দুর্ঘটনা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়লেও বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতকালীন (in itinere) দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ছাড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালের প্রাক-মহামারি সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইস্তাত (Istat)-এর কর্মসংস্থান তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে ইনাইল জানিয়েছে, প্রতি এক লাখ কর্মজীবীর বিপরীতে নিহতের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ জনে।
এদিকে কর্মক্ষেত্রে অসুস্থতা বা পেশাগত ব্যাধির (malattie professionali) অভিযোগ গত ২৬ বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে এ সংক্রান্ত অভিযোগ ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৮ হাজার ৩১২টিতে পৌঁছেছে, যার তিন-চতুর্থাংশই হাড় ও পেশীজনিত সমস্যা। তবে ইনাইল স্পষ্ট করেছে, এই সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে কাজের পরিবেশ খারাপ হয়েছে; বরং শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা (patronati) এবং চিকিৎসকদের সক্রিয় ভূমিকার ফলে আগে অপ্রকাশিত থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগব্যাধির তথ্য এখন প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্রাণহানির ৮৫ দশমিক ২ শতাংশই ঘটেছে শিল্প ও সেবা খাতে। বরাবরের মতো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নির্মাণ খাত, যেখানে ১৭৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন শিল্পে ১২৯ জন এবং পরিবহন ও গুদামজাতকরণ খাতে ১২৬ জন নিহত হন। হতাহতদের বয়স পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিহতদের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের বয়সই ছিল ৫০ বছরের বেশি। অন্যদিকে নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে মোট দুর্ঘটনার হার ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ইনাইলের সভাপতি ফ্যাব্রিজিও ডি’আশেনসো সকল স্তরের কর্মীকে সার্বজনীন বীমা সুরক্ষার আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংস্কার এবং ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। একই অনুষ্ঠানে ইতালির শ্রমমন্ত্রী মেরিনা কালদেরোনে জানান, বর্ধিত কর্মসংস্থানের সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কর্মস্থলে নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে সরকার ২৬ মিলিয়ন ইউরোর শিক্ষাবৃত্তি তহবিল ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
২০২৫ সালে ইতালিতে কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ১,১৮৯ হলেও পেশাগত রোগের অভিযোগ ১১.৩% বেড়ে ৯৮,৩১২-তে পৌঁছেছে, যা গত ২৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ansa


