বাংলাদেশ-ইতালি সংসদীয় কূটনীতি ও বাণিজ্য জোরদারের তাগিদ: জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

3 Min Read

জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ; নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালীয় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সংসদীয় কূটনীতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। এ সময় তাঁদের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালির অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সংসদীয় কূটনীতিকে কার্যকর করতে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে একটি ‘বাংলাদেশ-ইতালি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ (Parliamentary Friendship Group) গঠন এবং নিয়মিত সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই বিকাশ বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ইতালি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ইতালিকে বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি দেশটির ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইতালি যেভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে, সেজন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইতালীয় রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক সামগ্রী ইতালির বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। অন্যদিকে, স্পিকার বলেন, ইতালি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের একটি অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের বাজারে বেশ জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে স্পিকার বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে অংশ নিতে ইতালীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তায় আর্থিক অনুদান প্রদান করায় ইতালির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং এই সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। এ সময় ইতালীয় দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ ও ইতালি পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, প্রতিনিধি বিনিময়, নিরাপদ অভিবাসন এবং জ্বালানি অনুসন্ধানসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।

Ambasciata d’Italia a Dhaka – Embassy of Italy in Dhaka

Share This Article