অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কাজের সময় কমিয়ে রাইডারদের মজুরি ফাঁকি দিচ্ছে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম গ্লোভো। কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মিলানের সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয়।
তালির মিলান শহরে জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লোভো’ (Glovo)-এর বিরুদ্ধে ডেলিভারি কর্মীদের (রাইডার) চরম শোষণ এবং সুকৌশলে মজুরি ফাঁকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের খাতায়-কলমে মজুরি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিলানের সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় বা প্রোকুরা দি মিলানো (La Procura di Milano) গ্লোভোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে বিচার বিভাগীয় নজরদারির (controllo giudiziario) আওতায় রয়েছে।
রাইডারদের অভিযোগ ও প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্লোভো তাদের কর্মীদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করতে একটি গোপন অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তিটি এমনভাবে পরিচালিত হয়, যা কর্মীদের কাজের “নিয়ন্ত্রিত প্রকৃত সময়” (tempo effettivo calmierato) হিসাব করে। এর ফলে একজন রাইডার যদি রাস্তায় ১০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন, তবে তাকে মাত্র ৭ ঘণ্টার মজুরি দেওয়া হয়। রাইডারদের দাবি, আগে একটি ডেলিভারির জন্য আড়াই ইউরো দেওয়া হতো, যা এখন বাড়িয়ে তিন ইউরো করা হয়েছে। কিন্তু মাত্র এই তিন ইউরোর বিনিময়ে তাদের ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে ডেলিভারি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের পরিশ্রম ও সময়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
খাতায়-কলমে রাইডারদের প্রতি ঘণ্টায় ১৪ ইউরো পর্যন্ত আয়ের কথা প্রচার করা হলেও, চুক্তির ফাঁকফোকরের কারণে তা একপ্রকার প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ডেলিভারি খাতের বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, একজন কর্মীর ‘প্রকৃত কাজের সময়’ হিসেবে কেবল রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করে তা গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সময়টুকুকে ধরা হয়। পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় থাকা বা ফেরার পথে ব্যয় হওয়া সময় সম্পূর্ণ অবৈতনিক থেকে যায়। ফলে রাইডারদের মোট কর্মঘণ্টার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেকের জন্যই কেবল মজুরি দেওয়া হয়।

কর্মীদের প্রতি এই বৈষম্য দূর করতে মিলানের প্রসিকিউটর অফিস গ্লোভোর ওপর নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি জানিয়েছে। তারা আদালতকে অনুরোধ করেছে, গ্লোভো যেন তাদের রাইডারদের ফ্রিল্যান্সার বা অস্থায়ী কর্মীর বদলে নিয়মিত কর্মী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ (assunzione) দেয়। সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, প্রতিটি কর্মীর জন্য একটি সম্মানজনক মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।
মজুরি বঞ্চনার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও রাইডারদের নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও কর্মীদের কাজ করতে হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্লোভোর অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাইকেল ব্যবহারকারী রাইডারদের কাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ সময় অ্যাপে একটি নোটিফিকেশন পাঠিয়ে তাদের কাজ বন্ধ করে সরাসরি বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়। এর ফলে কর্মীরা চাইলেও নির্দিষ্ট ওই সময়ে আয় করতে পারেন না।
অমানবিক এই কর্মপরিবেশের কারণে রাইডারদের জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতালিতে ফুড ডেলিভারি খাতে কর্মরতদের একটি বড় অংশই অভিবাসী, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। স্বল্প আয় এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের কারণে মিলানের মতো ব্যয়বহুল শহরে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাঁচাতে একটি ছোটো ঘরে গাদাগাদি করে পাঁচজন পর্যন্ত রাইডার একসঙ্গে বসবাস করছেন। গিগ-ইকোনমির এই শোষণমূলক ব্যবস্থা অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। মিলান প্রসিকিউটরের এই উদ্যোগ সফল হলে ইতালিতে কর্মরত হাজার হাজার ডেলিভারি কর্মীর অধিকার আদায়ের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওস্টিয়ায় বাংলাদেশি ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে ইলেকট্রিক স্কুটিন ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিরোধ করায় মুখ ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়; গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
romatoday


