চলতি বছর ইতালিতে ২৪,৫৮৩ অভিবাসী প্রবেশ, শীর্ষে ৫,৯৭২ বাংলাদেশি

4 Min Read

চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে অভিবাসীদের পৌঁছানোর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে সামগ্রিক আগমন কমলেও দেশটিতে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানো অভিবাসীদের জাতীয়তার তালিকায় এককভাবে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ ইতালির উপকূল। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Ministero dell’Interno) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে সমুদ্রপথে মোট ২৪ হাজার ৫৮৩ জন অনিয়মিত অভিবাসী অবতরণ করেছেন। যদিও পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় সার্বিক অনুপ্রবেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও সাগরপথে আগতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের হার অপরিবর্তিতভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে।

সরকারি তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের একই সময় পর্যন্ত ইতালি উপকূলে অবতরণ করেছিলেন ৫৪ হাজার ৯৬৫ জন অভিবাসী। এছাড়া ২০২৪ সালের এই সময়ের মধ্যে সংখ্যাটি ছিল ৫৪ হাজার ১০৭ জন। সেই তুলনায় চলতি বছর সামগ্রিক অভিবাসী আগমন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, কেবল চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগে দেশটিতে সমুদ্রপথে পৌঁছেছেন ১ হাজার ৬৯২ জন। গত বছর পুরো অক্টোবর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯৩৮ এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছিল ৫ হাজার ৭২২ জন।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিভুক্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর উপকূলে অবতরণ করা অভিবাসীদের মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশই বাংলাদেশের নাগরিক। আগতদের দেওয়া ঘোষণার ভিত্তিতে দেখা গেছে, মোট ৫ হাজার ৯৭২ জন বাংলাদেশি রয়েছেন, যা মোট আগত অভিবাসীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলজেরিয়া; দেশটির ২ হাজার ৯৪২ জন নাগরিক (১২ শতাংশ) ইতালিতে পৌঁছেছেন। এরপরই রয়েছে সোমালিয়া, যেখান থেকে এসেছেন ২ হাজার ৭৯০ জন (১১ দশমিক ৩ শতাংশ)। তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে ইরিত্রিয়ার ২ হাজার ১৫৩ জন (৮ দশমিক ৮ শতাংশ), সুদানের ১ হাজার ৭৯৪ জন (৭ দশমিক ৩ শতাংশ), পাকিস্তানের ১ হাজার ৬৪৭ জন (৬ দশমিক ৭ শতাংশ), মিসরের ১ হাজার ৪৮৭ জন (৬ শতাংশ) এবং তিউনিসিয়ার ১ হাজার ২৮০ জন (৫ দশমিক ২ শতাংশ) রয়েছেন। এছাড়া মালি, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, ইরান, দক্ষিণ সুদান ও গিনির নাগরিকের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কিংবা পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ২ হাজার ১৪ জন অভিবাসীর।

অন্যদিকে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও তৎপরতা বাড়িয়েছে ইতালি সরকার। মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৭৪ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যাবাসন (rimpatrio) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৮৩ জনকে সরাসরি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়ায় বহিষ্কার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন ৯৯১ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পূর্ববর্তী বছরগুলোর মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। পুরো ২০২৫ সালে মোট ৬ হাজার ৭৭২ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল সে বছর আগতদের ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে পূর্ণ বছরে এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৭০৪ জন বা আগতদের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক সীমান্ত তদারকি জোরদারের ফলে ইতালিতে অনুপ্রবেশের চাপ সাময়িকভাবে কমলেও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রবণতায় ভাটা পড়েনি।

২০২৬ সালে ইতালির উপকূলে এযাবৎ ২৪,৫৮৩ জন অভিবাসী নামলেও, গত দুই বছরের তুলনায় সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ৫,৯৭২ জন, যা মোট আগমনের ২৪.৩%। অক্টোবরে এসেছে ১,৬৯২ জন।

agensir

Share This Article