ইতালিতে মেলোনির সরকার গঠনের উৎসবের মাঝেই অভিবাসনবিরোধী ক্ষোভ: বারিতে পোস্টার সাঁটালো ‘ফুতুরো নাৎসিওনালে’

3 Min Read

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার তাদের মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে অভিযোগ তুলে গত ৪ সেপ্টেম্বর ইতালির বন্দরনগরী বারিতে নিরাপত্তা, ইসলামিকরণ রোধ ও অভিবাসী ফেরানোর দাবিতে পোস্টার সাঁটিয়েছে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠী। একই সাথে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিশেষ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইতালির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদী সরকার পরিচালনার রেকর্ড উদযাপনের দিনে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক দলের উৎসব কর্মসূচিতে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী। গত ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বারিতে (Bari) মেলোনির রাজনৈতিক দল ‘ফ্রাতেল্লি দিসতালিয়া’র (FdI) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সরকারের স্থায়িত্ব উদযাপনের দিনেই শহরজুড়ে তীব্র অভিবাসন ও ইসলামবিরোধী পোস্টার টাঙিয়েছে ‘ফুতুরো নাৎসিওনালে’ (Futuro Nazionale) নামের একটি জোট। এসব পোস্টারে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তথাকথিত ‘ইসলামিকরণ’ বন্ধ করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ‘রি-মাইগ্রেশনের’ জোরালো দাবি জানানো হয়।

ইউরো-এমপি রবার্তো ভাননাচ্চির অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যরা বারিতে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির আগমনকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে এসব পোস্টার সাঁটায়। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের দাবি, মেলোনি যেসব ডানপন্থী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, বর্তমানে তিনি ও তাঁর সরকার সেই নীতি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছেন। ডানপন্থী ভোটারদের সেই মৌলিক নীতি ও প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিতেই ৪ সেপ্টেম্বর তারা এই প্রচার কার্যক্রম হাতে নেয়।

সংগঠনটির আইনসভার সদস্য ও পুগলিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি রোসানো সাসো (Rossano Sasso) এই প্রচারণার পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, মেলোনি সরকার উৎসব উদযাপনে ব্যস্ত থাকলেও বারির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিদিনই অভিবাসীদের দ্বারা সংঘটিত চুরি ও ডাকাতির খবর প্রধান শিরোনাম হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা রক্ষা, ইসলামিকরণ ঠেকানো এবং অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে মেলোনি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢিলেঢালা নীতি গ্রহণ করেছে, অথচ এসব প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করেই সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছিল।

মেলোনি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে সাসো নিজেদের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় ‘কাঁটা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত ‘ছদ্ম ডানপন্থী’ সরকারের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে ভোটাররা এখন তাদের দিকে ঝুঁকছেন এবং আগে যারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন, তারাও তাদের সমর্থনে এগিয়ে আসছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে তাদের দলের সমর্থন প্রায় দুই অঙ্কের কোঠায় পৌঁছাতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি মেলোনিকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে অভিবাসন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জরুরি সরকারি অধ্যাদেশ বা ডিক্রি (Decreti) জারির আহ্বান জানান। একই সাথে সরকার কঠোর আইন আনলে তারা আইনসভায় তাতে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রচারণার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং অপরাধের স্থান হিসেবে পরিচিত ‘পিয়াৎজা উম্বের্তোতে’ (Piazza Umberto) সকাল ১১টায় একটি বিশেষ ফ্ল্যাশ মব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইতালিজুড়ে কট্টর ডানপন্থীদের এমন ধারাবাহিক তৎপরতা ও মেলোনি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির ঘটনাটি দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, ডানপন্থী ভোটারদের ধরে রাখতে আগামী দিনে অভিবাসন নীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধিতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে ইতালীয় সরকার।


মেলোনির বারি সফরের দিন ফুতুরো নাজিওনালে নিরাপত্তা, ‘রেমিগ্রাজিওনে’ ও ইসলামায়ন বন্ধের দাবিতে পোস্টার সাঁটিয়ে আগামীকাল পিয়াচ্ছা উমবের্তোতে ফ্ল্যাশ মবের ঘোষণা দিয়েছে।

ansa

Share This Article