ইউরোপের পাঁচ দেশ অভিবাসীদের ইইউ-এর বাইরে পাঠাতে চুক্তির পথে

4 Min Read

জার্মানি, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডস একজোট, “রিটার্ন হাব” গঠনের উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

কোপেনহেগেন, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ – ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচটি দেশ চলতি বছরের মধ্যেই এমন কিছু চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যার মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশে পাঠানো সম্ভব হবে। শুক্রবার ডেনমার্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস – যৌথভাবে পরিচিত “গ্রুপ অব ফাইভ” নামে – এই সিদ্ধান্ত জানায়।

এই পাঁচ দেশ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের একটি দেশের সঙ্গে “রিটার্ন ফ্যাসিলিটি” বা প্রত্যর্পণ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে তারা ইতিমধ্যে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপে একমত হয়েছে। তবে কোন দেশে এই কেন্দ্র হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডব্রিন্ট কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে, যাতে রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। চলতি বছর ধরে একাধিকবার বৈঠকে বসা এই জোট আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে জার্মানির মিউনিখে আবার বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সবুজ সংকেত

গত জুন মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করেছিল, যার লক্ষ্য দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং সদস্য দেশগুলোকে ইইউ-এর বাইরে কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা ইউরোপ কাউন্সিল গত জুলাই মাসে সতর্ক করে বলেছিল, রিটার্ন হাব পরিকল্পনায় “উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার ঝুঁকি” রয়েছে। এছাড়া আরও একাধিক মানবাধিকার সংগঠনও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে।

ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব শার্লট স্লেন্টে মন্তব্য করেন, রিটার্ন হাবের বদলে ইইউ মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম চুক্তি বাস্তবায়নে জোর দেওয়াই বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে – যেখানে কঠোর সীমান্ত পরীক্ষা, দ্রুত আশ্রয় ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং আশ্রয় আবেদন ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, রিটার্ন হাব সীমিতসংখ্যক প্রত্যর্পণের ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়ায় এটি বিপজ্জনক পথে অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থ হতে পারে, বরং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।


গত ৪ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে জার্মানি, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডস অনিয়মিত অভিবাসী প্রেরণে ইউরোপের বাইরে কেন্দ্র স্থাপনে যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়।

reuters

ডেনমার্কের পরিকল্পনা ২০২৭ সালের মধ্যে

ডেনমার্কের অভিবাসন ও একীভূতকরণমন্ত্রী মর্টেন বডস্কভ জানান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ডেনমার্ক রিটার্ন হাবে অভিবাসী পাঠানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি এই উদ্যোগকে অংশীদার দেশে নতুন জীবন গড়ার একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে এই পাঁচ দেশ।

ইউএনএইচসিআরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিস্তারিত নিয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ইউরোপে অবস্থানরত অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং ইতালি এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই, তবু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অভিবাসন নীতিতে এই পরিবর্তনের প্রভাব সব সদস্য দেশেই কমবেশি পড়তে পারে। হ্যালো ইতালি বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া মাত্র পাঠকদের জানানো হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Share This Article