ইতালিতে স্থানীয়দের চেয়ে সুপারমার্কেটে বেশি ব্যয় করছেন প্রবাসীরা: ইউগভের গবেষণা

4 Min Read

বছরে কম গেলেও প্রতিবার কেনাকাটায় বড় অঙ্কের খরচের কারণে ইতালীয়দের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি ব্যয় করছেন বিদেশি বাসিন্দারা; পছন্দের শীর্ষে ডিসকাউন্ট শপ ও নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য।

ইতালির সুপারমার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় প্রবাসী ও বিদেশি পরিবারগুলো গড়ে দুই শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইতালিতে বিদেশি জনগোষ্ঠী’ (Gli stranieri in Italia) শীর্ষক ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্থানীয়দের চেয়ে প্রবাসীরা সুপারমার্কেটে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও প্রতিবার কেনাকাটায় তাঁদের ব্যয়ের অঙ্ক বেশ বড়।

সমীক্ষার উপাত্ত অনুযায়ী, একজন বিদেশি ক্রেতা সারা বছরে গড়ে প্রায় ২০০ বার সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে যান, যা স্থানীয় ইতালীয়দের উপস্থিতির তুলনায় কিছুটা কম। তবে প্রতিবার কেনাকাটায় তাঁদের রসিদের গড় মূল্য বা ‘স্কনত্রিনো’ (Scontrino) দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ০৫ ইউরো। এই উচ্চ ব্যয়ের প্রতিফলনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রুত ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্যের (FMCG) ক্ষেত্রে একজন প্রবাসীর বার্ষিক মোট গড় ব্যয় গিয়ে ঠেকছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউরোতে। মূলত ঘনঘন বাজারে না গিয়ে একবারে বেশি পণ্য কেনার অভ্যাসের কারণেই সার্বিক ব্যয়ের অঙ্কে স্থানীয় ইতালীয়দের চেয়ে এগিয়ে গেছেন বিদেশি নাগরিকেরা।

গবেষণায় বিদেশি ভোক্তাদের খরচের ধরনের মধ্যে স্পষ্ট এক ধরনের অর্থনৈতিক সচেতনতা ও হিসেবি মনোভাব লক্ষ্য করেছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের বড় একটি অংশ সাশ্রয়ী বা ডিসকাউন্ট সুপারশপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাঁদের মোট ব্যয়ের ২১ দশমিক ১ শতাংশই সম্পন্ন হয় বিভিন্ন ডিসকাউন্ট চেইনে। একই সঙ্গে বিশেষ মূল্যছাড় বা প্রমোশনাল পণ্যের প্রতিও তাঁদের গভীর মনোযোগ রয়েছে, যা প্রবাসীদের মোট কেনাকাটার প্রায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নামীদামি ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের চেয়ে সুপারমার্কেটের নিজস্ব লেবেলযুক্ত (Private Label) সাশ্রয়ী পণ্য কিনতেই প্রবাসীরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

সাশ্রয়ী কেনাকাটার জন্য বিদেশি ক্রেতারা সুপারমার্কেটের বিভিন্ন আধুনিক প্রচারমূলক সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ প্রবাসী সুপারমার্কেটের লয়্যালটি কার্ড বা কাস্টমার প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন। এ ছাড়া ছাড়ের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৫৪ শতাংশ মানুষ অনলাইন লিফলেট এবং ৫০ শতাংশ মানুষ কাগুজে প্রচারপত্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি আগের কেনাকাটার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাওয়া বিশেষ ব্যক্তিগত ছাড়ের সুবিধা নেন প্রায় ৪১ শতাংশ বিদেশি ক্রেতা।

পণ্যের পছন্দের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ঝোঁক বিশেষভাবে পানীয়, প্যাকেটজাত ফলমূল ও শাকসবজি, ব্যক্তিগত প্রসাধন সামগ্রী এবং গৃহপালিত পশুর খাবারের দিকে। খাদ্যাভ্যাসে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রভাব থাকায় জাতীয় গড়ের তুলনায় এথনিক বা ঐতিহ্যবাহী বিদেশি খাদ্যপণ্য কেনার হার ৫১ শতাংশ বেশি এবং সসেজজাতীয় উরস্টেল (Wurstel) কেনার হার ৫৬ শতাংশ বেশি। ওজন নির্ধারিত কাঁচাবাজারের মধ্যে ভিনদেশি ফল কেনার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৯৭ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য বিদেশি রান্নার অপরিহার্য উপাদান রসুনের ক্ষেত্রে ৪৭ শতাংশ এবং পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ বেশি কেনাকাটা করেন প্রবাসীরা। তরল পানীয়র মধ্যে এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৬৪ শতাংশ, লিকার ৩৮ শতাংশ, বিয়ার ৩০ শতাংশ এবং ফলের রসের চাহিদা ২২ শতাংশ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির ক্রমবর্ধমান অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কেনাকাটার ধরন দেশটির সামগ্রিক খুচরা বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। কর্মব্যস্ততার কারণে ঘনঘন বাজারে যাওয়া সম্ভব না হলেও পরিবার ও রান্নার অপরিহার্য খাদ্য উপাদানে কোনো আপস না করার কারণেই এই প্রবাসী পরিবারগুলো ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফারের সুযোগ নিয়ে বড় অঙ্কের কেনাকাটা সম্পন্ন করছে।


ইতালিতে বিদেশি পরিবারগুলো বছরে কমবার সুপারমার্কেটে গেলেও, ইতালীয়দের তুলনায় ২% বেশি খরচ করে; বার্ষিক গড় ব্যয় প্রায় ৪,৬০০ ইউরো, ডিসকাউন্ট, অফার ও এনার্জি ড্রিংকে তাদের ঝোঁকও তুলনামূলক বেশি।

ansa

Share This Article