নাগরিকত্ব কারও অধিকার নয়: অভিবাসী সন্তানদের বিরুদ্ধে সালভিনির কঠোর বিলে প্রাথমিক অনুমোদন

4 Min Read

ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির দল প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংকোচন বিল সংসদীয় কমিটিতে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। সালভিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অপরাধীদের জন্য নাগরিকত্ব কোনো ‘স্বয়ংক্রিয় অধিকার’ বা উপহার হতে পারে না।

ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির প্রস্তাবিত কঠোর আইনে প্রথম ধাপের সম্মতি মিলেছে। দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিদেশি বংশোদ্ভূতদের ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং অর্জিত নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান যুক্ত করে একটি বিতর্কিত বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সংসদের সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটি (Commissione Affari costituzionali della Camera) সালভিনির দল ‘লেগা’র উত্থাপিত এই খসড়াটি অনুমোদন করে। এই বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে অভিবাসনবিরোধী কট্টর অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছেন সালভিনি।

ইতালীয় গণমাধ্যমে ‘অ্যান্টি-মারানজা’ (legge anti-maranza) নামে আলোচিত এই আইনটির পেছনে মূল রাজনৈতিক চালিকাশক্তি মাত্তেও সালভিনি ও তার দলের সংসদ সদস্য ইগোর ইয়েজ্জি। সালভিনির দলের প্রস্তাবিত এই খসড়ায় বলা হয়েছে, ইতালিতে জন্ম নেওয়া অভিবাসী সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নাগরিকত্বের আবেদন করলে তাদের অপরাধের রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। বিশেষ করে কেউ মাদক কেনাবেচা বা পাচারের (spaccio) দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে, পরবর্তী অন্তত ১০ বছর তিনি আর নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া সালভিনি ও তার দল আবেদনকারীদের জন্য ইতালীয় ভাষা দক্ষতা এবং সমাজে ইতিবাচক আচরণের শর্ত আরও কঠিন করার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে যারা ইতোমধ্যেই নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তারা গুরুতর অপরাধে জড়ালে তা বাতিলের বিধান কার্যকর করতেও অনড় অবস্থানে রয়েছেন সালভিনি।

সংসদীয় কমিটিতে খসড়াটি অনুমোদিত হওয়ার পর নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। সালভিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, “ইতালির নাগরিকত্ব একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। যারা আইন লঙ্ঘন করে এবং আমাদের সমাজের নিয়মকানুনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখায়, তাদের জন্য নাগরিকত্ব কোনো উপহার বা স্বয়ংক্রিয় অধিকার হতে পারে না।” সালভিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অপরাধে জড়ালে তার সেই মর্যাদা অবিলম্বে কেড়ে নেওয়া উচিত। সালভিনির মতে, যারা ইতালির অংশ হতে চান, তাদের দেশের আইন, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখাতে হবে এবং অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্র কোনো নমনীয়তা দেখাবে না।

এদিকে সালভিনির এই কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছে ইতালির নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘চিত্তাদিনানৎসাত্তিভা’ (Cittadinanzattiva)। সংসদীয় কমিটির কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, সালভিনির এই বিধিনিষেধের ফলে ইতালিতে জন্ম নিয়ে বড় হওয়া হাজার হাজার অভিবাসী তরুণ মারাত্মক সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হবে। তারা সালভিনির প্রস্তাব বাতিল করে ১৯৯২ সালের পুরোনো আইন সংস্কারের দাবি জানায়। ইতালিতে বর্তমানে রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণের নীতি ‘ইউস সানগুইনিস’ (ius sanguinis) চালু রয়েছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগাল যেখানে শর্তসাপেক্ষে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (ius soli) সহজ করছে, সেখানে সালভিনি তরুণদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পথে হাঁটছেন।

কমিটিতে প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও সালভিনির এই প্রস্তাবিত আইনটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। সংসদীয় সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ অক্টোবর সোমবার বিলটি প্রতিনিধি পরিষদ বা চেম্বার অব ডেপুটিজের (Camera dei Deputati) সাধারণ অধিবেশনে আলোচনার জন্য তোলা হবে। সেখানে পাস হওয়ার পর সালভিনির এই পরিকল্পনা উচ্চকক্ষ সিনেটে তোলা হবে। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পূর্ণ সমর্থন এবং রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরেই সালভিনির এই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পুরো ইতালিতে কার্যকর হবে।

ইতালির সংসদীয় কমিটিতে নাগরিকত্ব আইন কঠোর করার প্রস্তাব প্রথম অনুমোদন পেয়েছে; নতুন নিয়মে অপরাধে দণ্ডিতদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথে বাধা ও অর্জিত নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সুযোগ বাড়বে।

alanews

Share This Article