সান জিউসেপ্পে ভেসুভিয়ানোতে এক তরুণ বাংলাদেশিকে অতর্কিত হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে; নেপলসের একটি হাসপাতালে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ওই প্রবাসী যুবক।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের পার্শ্ববর্তী সান জিউসেপ্পে ভেসুভিয়ানো (San Giuseppe Vesuviano) এলাকায় এক বাংলাদেশি যুবককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করার খবর পাওয়া গেছে। গত রাতে পিয়াজ্জা এলেনা ডি’আওস্তা (Piazza Elena d’Aosta) নামক একটি জনাকীর্ণ স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে ২৩ বছর বয়সী ওই যুবকের একটি ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ছিদ্র হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে নেপলসের একটি উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও হাসপাতালে স্থানান্তর
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে এই হামলার বিষয়ে প্রথম সতর্কতা জারি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সান্তা লুসিয়া (Clinica Santa Lucia) ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা দেখতে পান যে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবকের একটি ফুসফুস ছিদ্র (Lung Perforation) হয়ে গেছে, যা তার জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ক্লিনিকের চিকিৎসকরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ১১৮ (118) জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাহায্য নেন। সেখান থেকে তাকে প্রথমে নোলা (Nola) শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং উন্নত সার্জারির প্রয়োজনে তাকে জরুরি ভিত্তিতে নেপলসের বিখ্যাত ‘ওসপেদেল দেল মারে’ (Ospedale del Mare) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
ছুরিকাঘাতের খবর পাওয়ার পরপরই সান জিউসেপ্পে ভেসুভিয়ানো স্টেশনের কারাবিনিয়েরি (Carabinieri) পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ক্লিনিকে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেছেন। তদন্তকারীরা পিয়াজ্জা এলেনা ডি’আওস্তা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন যাতে হামলার মুহূর্ত এবং হামলাকারীকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়।

কারাবিনিয়েরি বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা বর্তমানে হামলার প্রেক্ষাপট ও রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের একটি বড় অংশ বর্তমানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর আলোকপাত করছে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে যে, এই হামলা কি কোনো পূর্ব শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে হয়েছে কি না। তদন্তকারী দল বর্তমানে ওই এলাকার বাংলাদেশি বাসিন্দাদের গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক কোনো বিরোধের ইতিহাস খতিয়ে দেখছে।
প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ
এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় সান জিউসেপ্পে ভেসুভিয়ানো এবং এর আশেপাশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ স্থানে এমন হামলার ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় প্রবাসীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হামলার পেছনে একজনের বেশি জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার সময় উপস্থিত বন্ধুদের জবানবন্দি এবং মোবাইল ফোনের লোকেশন ও কল রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘাতককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, আহত যুবকের অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয় এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া মাত্রই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সন্দেহভাজনদের নাম বা পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। অভিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সান জিউসেপ্পে ভেসুভিয়ানোতে ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ফুসফুসে ছিদ্র নিয়ে নেপলের হাসপাতালে ভর্তি। হামলার কারণ ও হামলাকারী এখনও শনাক্ত হয়নি।
napolitoday


