ইতালিতে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে ভাষা ও নাগরিক প্রশিক্ষণে জোর: ঢাকায় কর্মশালায় রাষ্ট্রদূতের কড়া বার্তা

3 Min Read

অভিবাসন আইনের তেইশ ধারার আওতায় বৈধ সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ভুয়া নথি ও দালালের খপ্পর থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ইতালীয় রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

ইতালির শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে জায়গা করে নিতে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা ও দেশটির নাগরিক রীতিনীতি জানার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতালীয় অভিবাসন আইনের তেইশ ধারা (Article 23)-এর অধীনে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ নিয়ে ঢাকায় একটি বিশেষ তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ব ইতালীয় ভাষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন শাখার তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক এই সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অভিবাসন আইনের সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো বিশদভাবে তুলে ধরে বলা হয়, ইতালিতে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালায় ভাষা এবং সামাজিক ও আইনি জ্ঞানকে কেন্দ্রীয় শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল কোনো নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলেই চলবে না, কর্মস্থলে যাওয়ার পূর্বেই ইতালীয় ভাষার প্রাথমিক যোগাযোগ দক্ষতা এবং সে দেশের সামাজিক নিয়মকানুন বা নাগরিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এই প্রস্তুতি কর্মীদের ইতালির সমাজে দ্রুত মানিয়ে নিতে ও কর্মক্ষেত্রে তাদের আইনি অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

সেমিনারে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইতালি প্রবেশের বৈধ পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে। তাই অবৈধ উপায়ে কিংবা ভুয়া কোনো কাগজপত্রের মাধ্যমে যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর শরণাপন্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি প্রার্থীদের নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরাসরি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক ও নীতি-নির্ধারণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন। এছাড়াও প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেশন প্রধান মাইকেল মিলার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ মিশন প্রধান ড. লরা টম-বন্দে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। পাশাপাশি ইতালি থেকে আগত প্রকল্প পৃষ্ঠপোষক দুটি শীর্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—‘ফ্রন্তিয়েরে স্কিলস’ (Frontiere Skills) ও ‘ফরম্যাট’ (Format)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, অভিবাসন আইনের তেইশ ধারার অধীন এই প্রকল্পগুলো মূলত ইতালির বেসরকারি খাতের বিশেষ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। ফলে এতে নির্ধারিত কর্মসংস্থানের সুযোগ বা কোটা বেশ সীমিত। এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম নয়, বরং মূল জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর মাধ্যমেই উন্মুক্ত আবেদন আহ্বান করা হয়ে থাকে। ফলস্বরূপ, বিভ্রান্তি বা প্রতারণা এড়াতে আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির ওপর নিয়মিত নজর রাখার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ইতালিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে ‘আর্টিকেল ২৩’-এর আওতায় ইতালীয় ভাষা, নাগরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জানাল ইতালির দূতাবাস।

Ambasciata d’Italia a Dhaka – Embassy of Italy in Dhaka

Share This Article