রেজ্জো এমিলিয়া থেকে ১৯৭০-এর দশকে চুরি যাওয়া ঐতিহাসিক ‘গারেলে ৫০’ স্কুটারটি দীর্ঘ ৫০ বছর পর নাপোলির এক বেজমেন্টে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কারাবিনিয়েরি পুলিশ; প্রিয় বাহনটি ফিরে পেয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ইতালীয় মেকানিক।
ইতালির রেজ্জো এমিলিয়া অঞ্চল থেকে চুরি হওয়ার ঠিক ৫০ বছর পর একটি ঐতিহাসিক স্কুটার অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এর আদি মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ বাহিনী ‘কারাবিনিয়েরি’ (Carabinieri)। অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাপোলিতে। অর্ধশতাব্দী আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের কৈশোরের প্রথম বাহনটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এর মালিক, পেশায় অবসরপ্রাপ্ত মেকানিক এলমো রমপিয়ানেসি। পুলিশ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ফোন করে স্কুটারটি খুঁজে পাওয়ার খবর দেয়, তখন তা যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাপোলি শহরের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বেজমেন্টে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত দামি ও চোরাই রেসিং সাইকেলের সন্ধানে বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। চোর চক্রের ফেলে যাওয়া মালামালের সূত্র ধরে তল্লাশির একপর্যায়ে ধুলোবালি জমে থাকা পুরোনো একটি ‘গারেলে ৫০’ (Garelli 50) মডেলের স্কুটার নজরে আসে তাদের। পুলিশ সদস্যরা স্কুটারের ধাতব ফ্রেমের ওপর খোদাই করা চেসিস নম্বর (Numero di telaio) পরীক্ষা করে জাতীয় ডেটাবেজে মিলিয়ে দেখেন। তখনই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য—১৯৭০-এর দশকে রেজ্জো এমিলিয়ার রিভালতা এলাকা থেকে এই বাহনটি চুরির সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

চেসিস নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ মূল মালিক এলমোর বর্তমান ঠিকানা খুঁজে বের করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে উত্তর ইতালির রেজ্জো এমিলিয়ার রিভালতা থেকে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নাপোলিতে ছুটে যান এলমো। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর স্কুটারটি সামনাসামনি দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে এলমো জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর মা-বাবা অনেক শখ করে স্কুটারটি উপহার দিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে ইতালির কিশোরদের কাছে নিজস্ব একটি মোটরবাইক বা স্কুটার থাকার অর্থই ছিল অপার স্বাধীনতা। স্কুলে যাওয়া কিংবা ১৬ বছর বয়সে মেকানিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার শুরুর দিনগুলোতে এই বাহনটিই ছিল তাঁর একমাত্র ভরসা।
এলমো আরও জানান, সত্তরের দশকে সন্ধ্যায় অন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে স্কুটার নিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে আড্ডা দেওয়া এবং বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার মধুর স্মৃতিগুলো এই বাহনের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। বাড়ি ফেরার পথে তিন বন্ধু মিলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিতে প্রতিযোগিতা করার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ৫০ বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে পড়ে থাকার পরও স্কুটারটির ইঞ্জিন এখনো পুরোপুরি সচল রয়েছে দেখে পুলিশ ও উপস্থিত সবাই তাজ্জব বনে যান। এলমোর ভাষায়, দীর্ঘ সময় পর স্কুটারটিকে কাছে পাওয়া যেন কৈশোরের হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে পুনর্মিলনের মতো।
সারা জীবন মেকানিক হিসেবে কাজ করা এই বয়োবৃদ্ধ নাগরিক এখন নিজেই স্কুটারটিকে পুরোপুরি নতুনের মতো করে সাজিয়ে তোলার কাজে হাত দিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর নাতি এই ঐতিহাসিক বাহনটির পুনরাবিষ্কারের গল্প শুনে ভীষণ রোমাঞ্চিত এবং দাদা যদি এটি ঠিক করে দেন, তবে সে নিজেই এটি চালাতে চায়। অর্ধশতক আগের সোনালী শৈশবের প্রতীক হয়ে থাকা এই স্কুটারটি মেরামত শেষে নিজের নাতির হাতে তুলে দেওয়ার আনন্দই এখন তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
৫০ বছর আগে ১৪ বছর বয়সে চুরি হওয়া গারেল্লি স্কুটারটি নেপলসের একটি গ্যারেজে উদ্ধার; অবসরপ্রাপ্ত মালিকের কাছে ফিরে পেল কৈশোরের স্মৃতি ও হারানো স্বাধীনতার অনুভূতি।
lespresso


