পাদোভা পুলিশ সদর দফতরের বিশেষ অভিযানে অক্টোবরে চার ডজন অভিবাসীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে; এর মধ্য দিয়ে শহরটিতে চলতি বছর মোট বহিষ্কারের সংখ্যা তিন শতাধিক ছাড়াল।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় ভেনেতো অঞ্চলের পাদোভা শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সদর দফতর (Questura di Padova)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে মোট ৪০ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ (Provvedimenti di espulsione) জারি করা হয়েছে। নতুন এই আদেশের ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শহরটিতে মোট বহিষ্কারাদেশ জারির সংখ্যা দাঁড়াল ৩২৯টিতে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী পৃথক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ১১ জনকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত (Rimpatrio) পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ জনকে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা সিপিয়ার (CPR – Centri per il rimpatrio)-এ স্থানান্তর করা হয়, যেখান থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকিদের মধ্যে পাঁচজনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় ইতালি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, একজন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছে এবং ১২ জনকে অবিলম্বে নিজ দায়িত্বে দেশত্যাগের জন্য পুলিশ কমিশনার (Questore) মার্কো ওদোরিসিওর আনুষ্ঠানিক নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারীদের তথ্যমতে, চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, মারামারি, ছিনতাই, চুরি, বেআইনি অস্ত্র বহন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং অবৈধভাবে ভবন দখলের মতো নানা ফৌজদারি অপরাধে সাজা ভোগ অথবা পূর্ব অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বহিষ্কারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছেন উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার নাগরিক, যার সংখ্যা ৯ জন। এ ছাড়া মরক্কো ও মলদোভার পাঁচজন করে নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় থাকা অন্যান্যরা নাইজেরিয়া, আলবেনিয়া, মিশর, চীন, সার্বিয়া, জর্জিয়া, গাম্বিয়া, রোমানিয়া, সিয়েরা লিওন, আলজেরিয়া, কসোভো এবং পাকিস্তানের অধিবাসী।
অভিযানের আওতায় বিশেষ একটি ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে পুলিশ। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইতালিতে বসবাস করে আসা ৫০ বছর বয়সী এক কসোভার নাগরিককে সাজা শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্ত্রীর ওপর পারিবারিক নির্যাতন এবং লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র বহনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। ভেরোনার নজরদারি আদালত (Tribunale di sorveglianza di Verona)-এর আদেশে কারাদণ্ড ভোগ শেষ হওয়ামাত্রই তাকে কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় ডিপোর্ট করা হয়।
ইতালির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে বিদেশি অপরাধীদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই স্থানীয় পুলিশ কমিশনাররা নিয়মিতভাবে এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করলেও সহিংস বা দণ্ডনীয় অপরাধে জড়ালে রেসিডেন্স পারমিট বাতিলসহ স্থায়ী বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে ইতালিতে বসবাসরত বিদেশি অভিবাসী ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য স্থানীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানোর প্রধান উপায়।
পাদোভায় অক্টোবরে ৪০ জন বিদেশি নাগরিকের বহিষ্কারাদেশ জারি; তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত ও ইতালির বিভিন্ন প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালে মোট বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৯ জনে।
rainews


