সীমান্তে সর্বোচ্চ সাত দিনের স্ক্রিনিং ও দ্রুত প্রত্যাবাসন: ইউরোপজুড়ে কার্যকর হলো নতুন কঠোর অভিবাসন আইন

4 Min Read

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিরাগত সীমান্তে অননুমোদিত প্রবেশ রোধ এবং আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক পরিচয় যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে; ইতালি ইতোমধ্যে এই ইউরোপীয় বিধানকে জাতীয় আইনে রূপান্তর করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অননুমোদিতভাবে প্রবেশকারী অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষাপ্রার্থীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় কিংবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইউরোপীয় অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় চুক্তির (European Pact on Migration and Asylum) অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ‘স্ক্রিনিং রেগুলেশন’ (Screening Regulation EU 2024/1356) নামের এই নতুন আইনি কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ইতালি সরকারও এক জরুরি অধ্যাদেশকে জাতীয় আইনে (আইন নম্বর ১৪৬/২০২৬) রূপান্তর করে এই অভিন্ন ইউরোপীয় ব্যবস্থার প্রয়োগ শুরু করেছে।

নতুন এই বিধিমালার আওতায় মূলত তিন শ্রেণির বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে: আন্তর্জাতিক সীমান্ত বা ট্রানজিট পয়েন্টে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারী, ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার তৎপরতার পর উপকূলে নামানো অভিবাসী এবং দেশের ভেতরে কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া শনাক্ত হওয়া অনিয়মিত নাগরিক। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং স্থল সীমান্তের নির্ধারিত ‘হটস্পট’ কেন্দ্রগুলোতে এই যাচাইবাছাই সম্পন্ন করা হবে। নতুন নীতিতে সময়সীমা কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে; বহিরাগত সীমান্তে পুরো প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ সাত দিন এবং অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীর ডিজিটাল আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ডাটাবেজের মাধ্যমে পূর্বের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান এবং সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। আইনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘আইনি অনুপ্রবেশহীনতার নীতি’ (finzione di non ingresso)। অর্থাৎ, একজন অভিবাসী শারীরিকভাবে ইউরোপের মাটিতে অবস্থান করলেও প্রাথমিক স্ক্রিনিং সফলভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি দেশে প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন না। এছাড়া পরিচয় শনাক্তে অসহযোগিতা, পালানোর ঝুঁকি কিংবা সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইতালির আইনে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার প্রশাসনিক আটকের (fermo) বিধান রাখা হয়েছে।

তবে কঠোর যাচাইবাছাইয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মানবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ আইনি নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রতিবন্ধী এবং মানবপাচার বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় তাদের সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আইনি প্রতিনিধির ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরো স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

মূলত ইতালির অভ্যন্তরীণ হটস্পট কাঠামোর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই পুরো ইউরোপের জন্য এই একক সীমান্ত নীতি তৈরি করা হয়েছে। ব্রাসেলসের লক্ষ্য হলো, প্রাথমিক পর্যায়েই প্রকৃত আশ্রয়ের দাবিদারদের আলাদা করা এবং যাঁদের আশ্রয়ের আইনি ভিত্তি নেই, তাঁদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের কঠোর স্ক্রিনিং কার্যকর করতে গিয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।



১২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর ইইউর নতুন স্ক্রিনিং বিধিতে সীমান্তে সাত দিন ও অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে তিন দিনের মধ্যে অভিবাসীদের পরিচয়, বায়োমেট্রিক, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক।

stranieriinitalia

Share This Article