ইতালির ফিনকানতিয়েরি কারখানায় বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি তরুণের অবস্থা আশঙ্কাজনক, আদালতে লড়ার ঘোষণা শ্রমিক ইউনিয়নের

3 Min Read

আনকোনার জাহাজ নির্মাণ কারখানায় দুর্ঘটনায় তিউনিসীয় শ্রমিকের মৃত্যু এবং ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কর্মস্থলের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রসিকিউশন।

ইতালির আনকোনা শহরের খ্যাতনামা জাহাজ নির্মাণ কারখানা ‘ফিনকানতিয়েরি’তে (Fincantieri) ভয়াবহ বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক কবির মহিদুলের শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ঘটনার পরপরই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পিসা শহরের বিশেষায়িত হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে (Centro Grandi Ustionati dell’ospedale di Pisa) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি এখনো শঙ্কামুক্ত নয় এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ৫৫ বছর বয়সী এক তিউনিসীয় সহকর্মী নিহত হয়েছেন।

ঘটনার আকস্মিকতা ও ভয়াবহতার পর আনকোনার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় (Procura di Ancona) আনুষ্ঠানিক আইনি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিহত তিউনিসীয় নাগরিক বুত্রার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রুজ্জেরো দিকুওনৎসোর কাছ থেকে মামলাটির নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রসিকিউটর আন্দ্রেয়া মাজির টেবিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে সংঘটিত ‘অনৈচ্ছিক নরহত্যা’ (omicidio colposo) এবং মারাত্মক শারীরিক জখম সৃষ্টির অভিযোগ সামনে রেখে কাজ করছেন।

গুরুতর আহত বাংলাদেশি তরুণ কবির মহিদুল আনকোনা শহরের ‘করসো কার্লো আলবের্তো’ (Corso Carlo Alberto) সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাঁর পুরো পরিবার বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নিহত তিউনিসীয় সহকর্মীও একই এলাকায় থাকতেন। ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিবাসী শ্রমিকদের এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

দুর্ঘটনার পর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন। তবে ধর্মঘট শেষ হতেই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা হয়। এমনকি ‘ভাইকিং’ (Viking) কোম্পানির বরাত দেওয়া একটি নতুন জাহাজ নির্ধারিত সমুদ্র পরীক্ষার জন্য গতকালই ডক ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে, যা আগামী সোমবার পর্যন্ত চলবে। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আহত শ্রমিকের স্মরণে একদিনের নাগরিক শোক (lutto cittadino) পালনের প্রাথমিক ইচ্ছা প্রকাশ পেলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া বহিরাগত সাবকন্ট্রাক্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের নিয়োগ ও কাজের পরিবেশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নাগরিক ক্ষোভ দেখা দিলে স্থানীয় মেয়র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা বক্তব্য দেন।

এদিকে ঘটনার প্রকৃত বিচার ও কর্মক্ষেত্রের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনড় অবস্থানে রয়েছে আনকোনার ধাতব শিল্প শ্রমিক ইউনিয়ন ‘ফিওম সিজিআইএল’ (Fiom Cgil)। সংগঠনের আনকোনা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক সারা গালাস্‌সি ঘোষণা করেছেন, শুধু প্রতীকী ধর্মঘটেই এই সংকটের সমাধান হবে না। তারা আসন্ন বিচারিক প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বাদীপক্ষ (parte civile) হিসেবে আদালতে উপস্থিত থাকবেন। একইসঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি আলোচনার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রিফেকচারের মধ্যস্থতায় শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তর (Ispettorato del lavoro) ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (Ast 2) অংশগ্রহণে একটি যৌথ বৈঠক আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নটি।


আনকোনা ফিনকান্তিয়েরিতে বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত ও বাংলাদেশি ২৭ বছর বয়সী শ্রমিক গুরুতর আহত; ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রসিকিউশন।

ilrestodelcarlino

Share This Article