আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্ধারকারী জাহাজটি থেকে নামার পর অভিবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচয় শনাক্তকরণ শুরু হয়েছে। সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদান থেকে পরিবার ছাড়া আসা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিশেষ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
ভূমধ্যসাগরে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেওয়ার সময় উদ্ধার হওয়া ১৪ জন অভিবাসীকে নিয়ে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় স্যালার্নো (Salerno) বন্দরে ভিড়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘সলিদেয়ার’ (Solidaire)। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পরে বন্দরটির ‘৩ জেন্নাইও’ (molo 3 Gennaio) জেটিতে জাহাজটি নোঙর করে। জাহাজটিতে থাকা অভিবাসীদের ঠিক অর্ধেকই পরিবারহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী। জাহাজটি তীরে পৌঁছানোর পরপরই অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সেখানে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও মানবিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জরুরি ব্যবস্থাপনা দল কার্যক্রম শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমধ্যসাগরে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের সময় সলিদেয়ার জাহাজটি প্রাথমিকভাবে মোট ১৫ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছিল। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্যালার্নো বন্দরে আসার আগেই শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক জরুরি বিবেচনায় তাদের একজনকে সিসিলির মাজারা দেল ভাল্লো (Mazara del Vallo) বন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট ১৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে জাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্য স্যালার্নো বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করে।
জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনই অভিভাবকহীন বিদেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক (Unaccompanied Minors)। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে এবং এই দলে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই রয়েছে। তারা মূলত আফ্রিকার দুই সংঘাতপীড়িত দেশ সোমালিয়া এবং দক্ষিণ সুদান থেকে উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের বয়স, জাতীয়তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই-বাছাই করছে।

অভিবাসীদের জাহাজ থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্যালার্নো বন্দর এলাকায় ইতালি সরকারের প্রচলিত অভ্যর্থনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করা হয়। বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের একটি দল সবার প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের প্রশাসনিক পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আইনি কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এবারের উদ্ধার কার্যক্রমে একা আসা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় তাদের সার্বিক সুরক্ষা ও উপযুক্ত আশ্রয়ের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্যালার্নো পৌরসভার সমাজকল্যাণ নীতিবিষয়ক কাউন্সিলর পাওলা দে রবের্তো (Paola De Roberto) প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানান, কোনো অভিভাবক ছাড়া একা পৌঁছানো অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাদের যথাযথ নিরাপত্তা, মানসিক সমর্থন ও কথা শোনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার।
পাওলা দে রবের্তো আরও উল্লেখ করেন, পৌর সমাজসেবা বিভাগের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট সব প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা। এর মাধ্যমে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীকে এমন একটি সুরক্ষা বলয়ের ভেতর নিয়ে আসা সম্ভব হবে, যেখানে তাদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপযুক্ত বিশেষ অভ্যর্থনা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ১৪ অভিবাসীকে নিয়ে স্যালার্নো বন্দরে সলিডেয়ার জাহাজ; তাঁদের মধ্যে সাত অপ্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
ansa


