ইতালিতে মে মাসে আগাম নির্বাচনের তোড়জোড়: ঝুঁকিতে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা

3 Min Read

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পালাৎসো কিজির আকস্মিক নির্বাচনী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল লেগা ও ফরজা ইতালিয়া; নির্বাচনী প্রচারণার চাপে উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে চুক্তি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির হওয়ার গভীর আশঙ্কা।

ইতালির রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আগাম সাধারণ নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। রোমের ক্ষমতা বলয় অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ‘পালাৎসো কিজি’ আগামী বছরের বসন্তে—বিশেষ করে মে মাস নাগাদ দেশটিতে আগাম নির্বাচন আয়োজনের তীব্র তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে নেতৃত্বের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের অভ্যন্তরে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ‘লেগা’ (Lega) এবং ‘ফরজা ইতালিয়া’ (Forza Italia) এই আগাম ভোটের সম্ভাবনা ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। নির্বাচন এগিয়ে আনার এই কৌশল কেবল জোটের রাজনৈতিক ভারসাম্যকেই সংকটে ফেলছে না, বরং বর্তমান সরকারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অভিবাসন ফাইলটিকেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইতালীয় ডানপন্থী শিবিরের মূল রাজনৈতিক ভিত্তি ও ঐক্যের প্রতীক ছিল অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ। তবে ভোটের সুবিধার জন্য তড়িঘড়ি করে সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে সরকারের সার্বিক অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটবে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চলমান আলোচনা, উত্তর আফ্রিকার ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে হওয়া জটিল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং আলোচিত অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র (সিপিআর) সম্প্রসারণের প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচারণার তাড়াহুড়োয় জটিল এই জাতীয় সংকটটি বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবিলার সুযোগ হারাবে এবং এটি আবারও রাজনৈতিক বক্তব্য ও টেলিভিশন টকশোর উত্তপ্ত বিতর্কে পরিণত হবে।

হঠাৎ আগাম ভোট ঘিরে জোটের ছোট দলগুলোর ভয় সবচেয়ে গভীর। কট্টর ডানপন্থী দল লেগা বর্তমানে নতুন উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সার্বভৌমত্ববাদী দলগুলোর চাপে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। সীমান্ত কঠোরভাবে পাহারা দেওয়ার অঙ্গীকার করে দলটিকে তাদের ভোটারদের বোঝাতে হবে। কিন্তু দ্রুত নির্বাচন হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে অভিবাসন নীতিতে নিজেদের সাফল্য প্রমাণ করা দলটির জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, মধ্যপন্থী দল ‘ফরজা ইতালিয়া’ পড়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সংকটে। ইতালির স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিয়মিত ও বৈধ বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে দলটি বরাবরই বাস্তবমুখী ও কিছুটা মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়ে থাকে। তবে আগাম ভোটের মেরুকরণে উগ্র বক্তব্য প্রধান্য পেলে দলটি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বার্থরক্ষা করতে পারবে না।

জনমত জরিপের সাময়িক অনুকূল পরিস্থিতি এবং নতুন নির্বাচনী নিয়মের সুযোগ নিয়ে ফায়দা তুলতে গিয়ে দেশের নীতিপ্রণেতারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সাগরে অভিবাসীদের আগমন থেমে থাকে না। বসন্তের আগেই যদি ক্ষমতাসীন জোটের এই কৌশলগত কোন্দলে অভিবাসন নীতিমালা মাঝপথে আটকে যায়, তবে তা কেবল ইতালির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই বিনষ্ট করবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশটির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করবে।

ইতালিতে মে মাসে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা ঘিরে জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়ছে; নির্বাচনী ব্যস্ততায় উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে অভিবাসন চুক্তি, প্রত্যাবাসন কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা স্থবির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

stranieriinitalia

Share This Article