ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই পাইলট প্রকল্পে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি ইউরোপীয় নিয়োগকর্তাদের নজরে আসার সুযোগ তৈরি হবে দক্ষ কর্মীদের।
২০২৫ সালে বিদেশি অভিবাসীদের অনুকূলে নতুন রেসিডেন্ট পারমিট বা ‘পেরমেসসো দি সোজ্জোর্নো’ (Permesso di soggiorno) ইস্যুর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে ইতালি। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইস্তাত-এর (ISTAT) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গত এক বছরে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৫৬টি নতুন পারমিট প্রদান করা হয়েছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি; পূর্ববর্তী বছরে যার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ১১৯টি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সালের নজিরবিহীন আশ্রয়প্রবাহের পর এটিই গত দেড় দশকের মধ্যে দেশটিতে সর্বোচ্চ রেসিডেন্ট পারমিট অনুমোদনের রেকর্ড।
ইস্তাতের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামগ্রিক এই প্রবৃদ্ধিতে পুরুষদের তুলনায় নারী অভিবাসীদের পারমিট পাওয়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে পারিবারিক পুনর্মিলন এবং শিক্ষা সংক্রান্ত পারমিটের ক্ষেত্রে। গত এক বছরে পারিবারিক ভিসা বা পারমিট বৃদ্ধি পেয়েছে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগত দিক থেকে পরিবারভিত্তিক পারমিটই ছিল সর্বোচ্চ, যা রেকর্ড ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩টিতে পৌঁছেছে। এর পরেই রয়েছে আন্তর্জাতিক আশ্রয় ও সুরক্ষামূলক (Asylum and protection) পারমিট, যার সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩১টি। তবে সার্বিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ক্যাটাগরিতেও পারমিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে ইস্যুকৃত পারমিটের হার বেড়েছে প্রায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বছরটিতে প্রায় ৫৯ হাজার অভিবাসী কর্মসংস্থানভিত্তিক পারমিট পেয়েছেন, যা মোট ইস্যুকৃত নথির ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে সরকারের পূর্বঘোষিত বার্ষিক কোটার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। ইতালি সরকার ওই বছরটিতে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে অর্ধেকেরও কম কর্মী চূড়ান্ত পারমিট হাতে পেয়েছেন। কাজের পারমিটের ক্ষেত্রে পুরুষদের আধিপত্য বরাবরের মতোই বজায় রয়েছে; পুরুষদের মধ্যে কাজের পারমিট বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ২ শতাংশ।
কাজের সূত্রে ইতালিতে নিয়মিত বৈধতা পাওয়ার দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে। ইস্তাতের তথ্য অনুযায়ী, কাজের পারমিট পাওয়া শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত। ভারতীয় নাগরিকদের অনুকূলে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৮৩টি কাজের পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মরক্কোর নাগরিকরা পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৫টি পারমিট। এর পর যথাক্রমে রয়েছে তিউনিসিয়া (৫ হাজার ৬১২) ও মিসর (৫ হাজার ১৪০)।
এই তালিকায় পঞ্চম সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে মোট ৩ হাজার ৯২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বৈধ কর্মসংস্থান কোটার আওতায় নতুন রেসিডেন্ট পারমিট লাভ করেছেন। ইউরোপের উন্নত এই অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও, নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। সব মিলিয়ে, নিয়মিত অভিবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে ইতালির সমাজ ও অর্থনীতিতে বহিরাগত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে।
ইতালিসহ ইউরোপে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৩ হাজার বাংলাদেশিকে বিনা মূল্যে কারিগরি ও ইতালীয় ভাষা প্রশিক্ষণ; যোগ্যরা পরবর্তী সময়ে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
kalerkantho


