রোম প্রিফেকচারের তথ্যে অ্যাকশনএইডের গবেষণা প্রতিবেদন; বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে প্রত্যাবাসনের হার জাতীয় গড়ের নিচে নেমে আসায় সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন।
ইতালি সরকারের বহুল আলোচিত বহিঃদেশীয় অভিবাসী প্রত্যাবাসন নীতিতে বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং অকার্যকারিতার স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে। আলবেনিয়ার জাদের (Gjadër) প্রত্যাবাসন কেন্দ্র বা সিপিআর (CPR) থেকে ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ জন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, কেন্দ্রটিতে প্রত্যেক অভিবাসীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পেছনে সরকারের গড়ে ব্যয় হয়েছে ৬৮ হাজার ১১৬ ইউরো, যা রোমের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের তুলনায় চার গুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড ইতালি এবং দেশটির বারি আলদো মোরো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ বিশ্লেষণে এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
‘আটক ও বহিষ্কার: ইতালীয় প্রত্যাবাসন নীতির বিশ্লেষণ ২০১৫-২০২৫’ শীর্ষক উন্মুক্ত ডেটা প্ল্যাটফর্মের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে রোম প্রিফেকচারের (Prefettura di Roma) আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রশাসনিক আওতাধীন রোমের পোন্তে গালেরিয়া এবং আলবেনিয়ার জাদের—উভয় কেন্দ্রই পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বিপুল তহবিল বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও উভয় কেন্দ্র থেকেই অভিবাসী ফেরত পাঠানোর গতি আশঙ্কাজনকভাবে ধীর।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে আলবেনিয়ার জাদের কেন্দ্রে বিভিন্ন ইতালীয় প্রত্যাবাসন কেন্দ্র থেকে স্থানান্তর করে মোট ৩০৭ জন অভিবাসীকে নেওয়া হয়েছিল। বছরজুড়ে সেখান থেকে মাত্র ৫৯ জনকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়, যা আগতদের মাত্র ১৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে রোমের অভ্যন্তরীণ পোন্তে গালেরিয়া কেন্দ্রে গত বছর নতুন করে প্রবেশ করেছিলেন ১ হাজার ২০৩ জন অভিবাসী, যার মধ্যে ১৬৫ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো গেছে (১৩.৭ শতাংশ)। যেখানে ২০২৪ সালের তুলনায় পোন্তে গালেরিয়ায় অভিবাসী প্রবেশের হার ৬.৭ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে প্রত্যাবাসন কমেছে ১.৮ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ইতালির জাতীয় গড় প্রত্যাবাসন হার ২৫.৩ শতাংশ হলেও আলোচ্য কেন্দ্র দুটির একটিও জাতীয় হারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আলবেনিয়ার কেন্দ্রের আকাশচুম্বী পরিচালনা ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষকরা জানান, প্রতিটি প্রত্যাবাসনে ৬৮ হাজার ইউরো ব্যয়ের হিসাবে ইতালি থেকে আলবেনিয়ায় অভিবাসীদের আনা-নেওয়ার যাতায়াত খরচ অন্তর্ভুক্তই করা যায়নি, যা জনব্যয়ে আরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। অ্যাকশনএইডের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিরাপত্তা, পরিবহন, বিচারিক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা বাবদ অতিরিক্ত ৭৪ লাখ ইউরোর বেশি আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে এই কমপ্লেক্সের আওতাধীন সিপিআর এবং আশ্রয়প্রার্থী আটক কেন্দ্র (CTRA) মিলিয়ে মোট ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৮৬২ ইউরো ব্যয় রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে নির্মাণ কাজেই ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ইউরো এবং কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো।
এর বিপরীতে রোমের পোন্তে গালেরিয়া কেন্দ্রে ২০২৫ সালে পরিচালনা ও নিয়মিত-অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ খরচ দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৭ ইউরো, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ৩৫.৮ শতাংশ বেশি। ১০১ জনের কার্যকর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে প্রতিটি প্রত্যাবাসনের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫৬৮ ইউরো। সামগ্রিকভাবে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পোন্তে গালেরিয়া কেন্দ্রটির পেছনেই ইতালীয় করদাতাদের অন্তত ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো ব্যয় করতে হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলবেনিয়ায় কেন্দ্র খোলার রাজনৈতিক পদক্ষেপ কার্যত অর্থনৈতিকভাবে চরম ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। বিপুল অঙ্কের সরকারি তহবিল অপচয় এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এমন মন্থর গতি ইতালি সরকারের সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আলবেনিয়ার গাদিয়ের Cpr-এ ২০২৫ সালে ৩০৭ জনের মধ্যে মাত্র ৫৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়; প্রতিটি প্রত্যাবাসনে ব্যয় হয়েছে গড়ে ৬৮,১১৬ ইউরো—পন্তে গালেরিয়ার চারগুণেরও বেশি।
ilpiccolo


