ইইতালির রাজধানী রোম এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশি নগরী। সেখানে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে পবিত্র ঈদুল ফিতর এখন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে আনন্দ, ঐক্য এবং হাজার বছরের লালিত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক।
ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ.টি.এম রকিবুল হক-এর এক বিশেষ নিবন্ধে উঠে এসেছে রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপনের এই প্রাণবন্ত চিত্র।
ঈদের এই আনন্দ কেবল উদযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর একটি বিশাল অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। উৎসব উপলক্ষে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনদের কাছে অতিরিক্ত রেমিট্যান্স পাঠান, যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বড় ধরনের জোগান দেয়।
ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ.টি.এম রকিবুল হক
রাষ্ট্রদূত জানান, রোম এবং এর আশপাশের এলাকা, বিশেষ করে ভিত্তোরিও, তোরপিনাতার, কর্ণেলিয়া এবং মন্টানিওলা এখন বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রমজান মাসজুড়ে ব্যস্ত কর্মঘণ্টার মাঝেও রোজা পালন এবং সন্ধ্যায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলগুলো প্রবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এসব আয়োজনে কেবল বাংলাদেশিরাই নন, বরং স্থানীয় ইতালীয় ও বিভিন্ন দেশের মুসলিম অভিবাসীরাও অংশ নেন, যা দেশটিতে সামাজিক সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
রাষ্ট্রদূতের মতে, ঈদের এই আনন্দ কেবল উদযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর একটি বিশাল অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। উৎসব উপলক্ষে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনদের কাছে অতিরিক্ত রেমিট্যান্স পাঠান, যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বড় ধরনের জোগান দেয়। অনেকেই নাড়ির টানে সশরীরে দেশে ফেরেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ঈদের দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে বলা হয়েছে, রোমের বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা মাঠে বাংলাদেশি ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের যৌথ উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিদেশের মাটিতে ঈদের দিনটি অনেক সময় বিষাদময় হয়ে ওঠে যখন নামাজের পরপরই অনেককে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে ছুটতে হয়। তা সত্ত্বেও বিকেলে বিভিন্ন পার্ক ও খোলা জায়গায় ‘ঈদ পুনর্মিলনী’র আয়োজন করা হয়, যেখানে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা এক চিলতে বাংলাদেশ খুঁজে পান।
রাষ্ট্রদূত এ.টি.এম রকিবুল হক উল্লেখ করেন, এই উদযাপন স্থানীয় ইতালীয়দের সামনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, পোশাক ও সামাজিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ। এটি কেবল ইতালির বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের সঙ্গে প্রবাসীদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে। মূলত, রোমে ঈদুল ফিতর উদযাপন বাংলাদেশি প্রবাসীদের ইতালির মূলধারার সামাজিক কাঠামোতে মিশে যেতে এক বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

