আগামী ২১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ইতালির আকাশপথ, রেলপথ, নৌপথ এবং স্থানীয় গণপরিবহনে দফায় দফায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন; ছুটির মৌসুমে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখতে গ্যারান্টিযুক্ত সময়সূচী অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোম, ইতালি
গ্রীষ্মকালীন ছুটির এই ব্যস্ত সময়ে ইতালির পরিবহন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে আগামী ২১ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশটির প্রায় সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি পরিবহন ব্যবস্থায় ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিমান থেকে শুরু করে ট্রেন, ফেরি এবং শহরের অভ্যন্তরীণ বাস ও ট্রাম—সবকিছুই এই আন্দোলনের আওতায় থাকবে। ফলে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে।
আকাশপথ ও বিমানবন্দর পরিষেবা
ধর্মঘটের শুরুতেই আগামী ২১ জুলাই মঙ্গলবার আকাশপথের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইনস ‘ইজিজেট’ (EasyJet)-এর কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তবে ইতালির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে নির্দিষ্ট কিছু সময় বা ‘গ্যারান্টি স্লটে’ বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো নিয়মিত চলবে।
ইজিজেট ছাড়াও মিলান মালপেনসা (Milano Malpensa), পালেরমো (Palermo) এবং লামেজিয়া তের্মের মতো বড় বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টাফ ও লজিস্টিক কর্মীরাও এদিন পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করবেন। এছাড়া নেপলস, সালেরনো ও ওলবিয়া বিমানবন্দরে বিভিন্ন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বন্ধ রাখা হবে। কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীরা টিকিটের মূল্য ফেরত পেতে পারেন অথবা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং নিতে পারবেন।
রেলপথ ও দূরপাল্লার ট্রেন
রেলপথের যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের দিন হবে ২৪ জুলাই শুক্রবার। তবে এই ধর্মঘটের প্রভাব শুরু হবে মূলত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকেই, যা চলবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা। রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা ‘এফএস ইতালিয়ানে’ (FS Italiane) গ্রুপের কর্মীরা এই আন্দোলনে শামিল হওয়ায় দেশজুড়ে ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ‘কাব ত্রাসপর্তি’ (Cub Trasporti) এবং এসজিবি (SGB)-এর মতো শ্রমিক সংগঠনগুলো এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, বেসরকারি ট্রেন অপারেটর ‘ইতালো’ (Italo)-এর কর্মীরা এই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না, ফলে তাদের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শহরের অভ্যন্তরীণ ও নৌ পরিবহন
২১ জুলাই বিমান ধর্মঘটের পাশাপাশি জেনোয়া, ফ্লোরেন্স (Florence) ও প্রাতোসহ বেশ কিছু বড় শহরে স্থানীয় বাস ও ট্রাম পরিষেবাও বিঘ্নিত হবে। জেনোয়াতে দুপুর ১১:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত এবং ফ্লোরেন্সে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হবে। এছাড়া ২৫ ও ২৭ জুলাই সার্দিনিয়া ও সাভোনা শহরেও দফায় দফায় ধর্মঘট চলবে।
নৌপথের ক্ষেত্রে ২২ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ২৩ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘গ্র্যান্ডি নাভি ভেলোসি’ (GNV)-এর ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়া ২৮ জুলাই তোসকানা অঞ্চলের ‘তোরেমার’ (Toremar) ফেরি কর্মীরা পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে যে, তারা যেন ভ্রমণের আগে অবশ্যই পরিবহন সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট থেকে ফ্লাইটের অবস্থা বা ট্রেনের সময়সূচী পুনরায় যাচাই করে নেন। বিশেষ করে বিমান ও রেলের ‘গ্যারান্টি স্লট’ সম্পর্কে সচেতন থাকলে ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হতে পারে। ইতালির পরিবহন খাতে এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
২১–২৮ জুলাই ইতালির বিভিন্ন পরিবহন খাতে ধর্মঘট; যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রা পরিকল্পনা করার পরামর্শ।
corriere


