ভেনিস, ইতালি: প্রবাসের মাটিতে একের পর এক শিক্ষাগত সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করেছেন ভেনিসে বসবাসরত মেধাবী শিক্ষার্থী সারা মোহাম্মাদ শহিদ (Sara MD Shahid)। ইংরেজি ভাষা, গণিত ও যুক্তিভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক এবং ইতালির জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় তাঁর অসাধারণ অর্জন ভেনিসসহ পুরো ইতালির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
সারা বর্তমানে ভেনিসের আই.সি.এস. “ফ্রান্সেসকো কুয়েরিনি” (I.C.S. “Francesco Querini”) স্কুলের তৃতীয় মিডিয়া বা 3a media শ্রেণির শিক্ষার্থী। অল্প বয়সেই ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তিনি নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং বহুমুখী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে প্রবাসে বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক এক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের কেমব্রিজ প্রিলিমিনারি ইংলিশ টেস্টে (PET) সারা সর্বোচ্চ ‘গ্রেড এ’ অর্জন করেছেন। পরীক্ষায় তাঁর মোট স্কোর ছিল ১৬১। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, লিসনিং ও স্পিকিং—দুই বিভাগেই তিনি ১৭০-এর মধ্যে পূর্ণ ১৭০ নম্বর পেয়েছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি ইউরোপীয় ভাষা দক্ষতার মানদণ্ড CEFR অনুযায়ী B2 লেভেলের যোগ্যতা অর্জন করেন। ইংরেজি ভাষা বোঝা, বলা এবং কার্যকরভাবে ব্যবহারে তাঁর উচ্চমানের দক্ষতার প্রমাণ বহন করছে এই অর্জন।
প্রবাসের মাটিতে মেধা ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সারা মাহাম্মাদ শোহদ। আন্তর্জাতিক ও ইতালির জাতীয় পর্যায়ে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটির জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশী কমিউনিটি গর্বিত
ইংরেজির পাশাপাশি গণিত ও যুক্তির ক্ষেত্রেও সারা জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। ইতালির শিক্ষা ও যোগ্যতা মন্ত্রণালয় স্বীকৃত এবং পলিটেকনিকো দি বারির পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ৩৬তম জাতীয় যুক্তি, ভাষা ও গণিত অলিম্পিয়াড—Gioiamathesis-এ তিনি সমগ্র ইতালিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। হাজারো ইতালীয় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় একজন প্রবাসী বাংলাদেশি কন্যার এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গর্বের।
এ ছাড়া ইউরোপের জনপ্রিয় ইংরেজি প্রতিযোগিতা ‘দ্য বিগ চ্যালেঞ্জ’-এ ৩৫০ নম্বরের মধ্যে ৩৩০ পেয়ে সারা তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি মেডেল এবং বিশেষ ‘সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেছেন।
সারার ধারাবাহিক কৃতিত্বে তাঁর পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সারা যেন ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ ও প্রবাসী সমাজের সম্মান বৃদ্ধি করতে পারেন, সেজন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করা হয়েছে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সারার এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং কঠোর পরিশ্রম, সুযোগের সঠিক ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর এই জয়যাত্রা ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে আরও আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করবে।


