রিপোর্ট: মিনহাজ হোসেন
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিনটি উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ আলোচনা ও স্মারক সভার, যেখানে অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট) ইফতেখার।
কর্মসূচির সূচনালগ্নে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সভার মূল কার্যক্রম।
পরবর্তী পর্বে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের বিশেষ স্মারক বাণী পাঠ করে শোনান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে।
স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন ইতালিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে দূর পরবাসে থেকেও মাতৃভূমির স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের সক্রিয় সংহতি ও অবদানের স্মৃতিচারণ করেন। তারা জানান, দেশের সংকটকালে প্রবাসেও তারা কীভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও সংকটে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবসময় সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা রেখে এসেছেন, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি প্রবাসীদের এই অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রদর্শিত হয় ঢাকা থেকে প্রেরিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসা আন্দোলনের বাস্তবচিত্র উপস্থিত প্রবাসীদের গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা।
সবমিলিয়ে ইতালি প্রবাসে পালিত এই স্মরণসভা প্রমাণ করে দেয়, ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও মাতৃভূমির প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে।

