বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাতারেল্লা; দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইতালীয় রাষ্ট্রপ্রধান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিষেককে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইতালি। ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাতারেল্লা (Sergio Mattarella) বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা প্রেরণ করেছেন। গত ২৮ আগস্ট পাঠানো এই বার্তায় তিনি দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। মাতারেল্লার এই অভিনন্দন বার্তাকে আগামী দিনে ঢাকা ও রোমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বন্ধুত্বের দীর্ঘ পথচলা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
প্রেসিডেন্ট মাতারেল্লা তার বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, তা ইতালি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তিনি নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সমঝোতা ও মৈত্রীর বন্ধন আরও গভীর হবে। ইতালীয় রাষ্ট্রপ্রধান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) সাথে বাংলাদেশের বৃহত্তর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
ইতালির উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি
মাতারেল্লার বার্তায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ইতালিতে বসবাসরত বিশাল বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ভূমিকার উল্লেখ। তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, ইতালির সমাজ ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রবাসী বাংলাদেশিরাই দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন বলে তিনি মনে করেন। প্রবাসীদের এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ভবিষ্যতে ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং আইনি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ইতালিতে বর্তমানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি অত্যন্ত সুনামের সাথে বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যৌথ সহযোগিতা
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরেও আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে (multilateral fora) যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন সের্জিও মাতারেল্লা। জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন সমস্যা এবং বিশ্ব শান্তি রক্ষার মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে ইতালি ও বাংলাদেশ যাতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে তিনি আলোচনার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মাতারেল্লা বিশ্বাস করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার ইতিবাচক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।
সাফল্যের শুভকামনা
মাতারেল্লা তার বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য এবং তার উচ্চ পদের দায়িত্ব পালনে উজ্জ্বল সাফল্য কামনা করেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন যে, দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান সংলাপ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে কেবল নিরবচ্ছিন্নই থাকবে না, বরং তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
ইতালির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জি-৭ (G7) ভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে এই দ্রুত অভিনন্দন বার্তা বাংলাদেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের প্রতি ইতালির রাজনৈতিক সমর্থন এবং আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক ও ইইউ সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
dailytimesofbangladesh


