ইউরোপে কমছে আশ্রয়ের আবেদন: ফ্রান্সের পরেই রয়েছে ইতালি

3 Min Read

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও, শীর্ষ তালিকায় ফ্রান্সের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক আশ্রয় বা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় বিষয়ক সংস্থা ইইউএএ (EUAA)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস: মিড-ইয়ার রিভিউ ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর আওতাধীন ‘ইইউ প্লাস’ (EU+) অঞ্চলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে। এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই অঞ্চলে আশ্রয়ের আবেদন প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। ইইউএএ-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর থেকে এটিই সর্বনিম্ন অর্জিত পরিসংখ্যান। এমনকি মহামারী বা কভিড ১৯-এর লকডাউন বছরগুলোকে বাদ দিলে, ২০১৯ সালের পর থেকে এটিই অর্ধবার্ষিক হিসেবে সর্বনিম্ন আবেদনের রেকর্ড।

সংস্থাটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই পতন মূলত গত কিছুদিন ধরে চলা সামগ্রিক একটি নিম্নমুখী ধারারই ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ, ইউরোপজুড়ে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাসের যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, চলতি বছরের প্রথমার্ধেও তা বজায় রয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় এখনও শীর্ষস্থানগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।

‘ইইউ প্লাস’ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি ভূখণ্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। আর এই তালিকার ঠিক পরেই অর্থাৎ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি। ইতালিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আশ্রয়প্রার্থীরা আবেদন জমা দিয়েছেন, যা সমগ্র ইউরোপীয় অঞ্চলে দেশটির উচ্চ চাহিদাকেই পুনরায় প্রমাণ করে। তবে সার্বিক সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপজুড়ে আবেদন হ্রাসের এই প্রবণতা অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সংস্থাটি নিয়মিতভাবে এই ধরনের ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, যা মহাদেশটিতে অভিবাসনপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি বুঝতে নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী আবেদন হ্রাসের এই ধারা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


ইইউ+ অঞ্চলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আশ্রয়ের আবেদন ১৭% কমে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজারে নেমেছে; ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন পেয়েছে ইতালি।

ilsole24ore

Share This Article