চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে অননুমোদিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে রেকর্ড পতন লক্ষ্য করা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্ত দিয়ে অবৈধ ও অননুমোদিত প্রবেশ বা সীমান্ত পারাপারের প্রবণতা চলতি বছরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূল পাহারা সংস্থা ফ্রন্টটেক্স (Frontex)-এর প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য সামনে এসেছে। অভিবাসন পরিস্থিতির এই পরিবর্তন ইউরোপীয় রাজনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রন্টটেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের সীমান্তগুলোতে প্রায় ৭৪ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবেশের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ৩৫ শতাংশ কম। এর আগে প্রথম সাত মাসের প্রাক্কলিত তথ্যে প্রায় ৬১ হাজার শনাক্তকরণের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে তখন ৩৭ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত মিলেছিল। ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলোর মধ্যে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় অংশে এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই রুটে অবৈধ চলাচল বা অভিবাসীদের আগমন প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে এবং প্রথম সাত মাসে সেখানে মাত্র ১৬ হাজার ৪৫৪টি সীমান্ত পারাপার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সার্বিক হ্রাসের বিপরীতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি ইউরোপে প্রবেশের প্রধান করিডোর হিসেবে বহাল রয়েছে এবং এর উল্টো পথে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অবৈধ প্রবেশ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ভিন্ন এক প্রবণতা তৈরি করেছে।

ইউরোপের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যানেও অভিবাসী আগমনের নিম্নমুখী ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ইতালীয় উপকূলে সমুদ্রপথে মোট ১৭ হাজার ৩৫৩ জন অভিবাসী ও শরণার্থী এসে পৌঁছেছেন। অথচ ঠিক আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময় বা তুলনামূলক পর্বে এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩৮ হাজার ৮০১ জন। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীই নয়, এর পাশাপাশি অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মাইনরদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ক্যাটাগরিতে আগে যেখানে ৬ হাজার ৮৪৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে নথিভুক্ত করা হয়েছিল, তা কমে বর্তমানে ৩ হাজার ৩১২ জনে এসে ঠেকেছে।
এদিকে সমুদ্রপথে আগমনকারী অভিবাসীদের সংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি স্পেনের অধীন উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সিউটা (Ceuta)-তেও অভিবাসনজনিত চাপ ও পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিউটার স্থানীয় প্রশাসনের ওপর তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে মুখ খুলেছেন শহরটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস (Juan Jesus Vivas)। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে সিউটা শহরে পৌঁছানো অভিবাসীদের অবিলম্বে মরক্কোয় ফেরত বা নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শহরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত বেষ্টনী ও সুরক্ষাব্যবস্থা আরও কঠোর করার পাশাপাশি নতুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ভিভাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিউটার জনজীবন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে এখনো সম্পূর্ণ ‘অসহনীয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইইউর বহিঃসীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ৩৭% কমেছে; কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে পতন ৫৫%, আর ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে প্রায় ৬১ হাজার অনুপ্রবেশ শনাক্ত হয়েছে।
ilsole24ore


