ইতালির রাজধানী রোমের পূর্বাঞ্চলে শনিবার রাতে পৃথক চারটি স্থানে চারজন অভিবাসীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে একদল যুবক; আহতদের মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
ইতালির রাজধানী রোমের পূর্ব উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়ি থেকে বিদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে সংঘটিত এই হামলায় পাকিস্তান, ভারত ও নাইজেরিয়ার চারজন নাগরিক আহত হয়েছেন। ইতালীয় পুলিশ বা ক্যারাবিনিয়েরি (Carabinieri) এই ঘটনাকে ‘বিদেশি শিকার’ বা বর্ণবিদ্বেষী হামলা হিসেবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে। এই নজিরবিহীন আক্রমণে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার গভীর রাতে একটি হালকা রঙের প্রাইভেট কারে করে চারজন যুবক রোমের পূর্ব দিকের বিভিন্ন সড়ক দাপিয়ে বেড়ায়। তারা মূলত অভিবাসীদের জনসমাগমস্থল বা কর্মস্থলকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে ‘তোরে আনজেলা’ (Torre Angela) এলাকায় দুই দফায় গুলি চালায়। এরপর তারা ‘রোমানিনা’ (Romanina) এবং সবশেষে ‘তোর সাপিয়েনজা’ (Tor Sapienza) এলাকায় গিয়ে একই কায়দায় গুলি বর্ষণ করে।
হামলার শিকার চারজনের মধ্যে একজন ৩৫ বছর বয়সী পাকিস্তানি ডেলিভারি রাইডার ছিলেন, যিনি কাজ করার সময় ‘ভিয়া ডেল তোরাচ্চিও দি তোরেনোভা’ নামক স্থানে হামলার মুখে পড়েন। আহত অন্য তিনজনের মধ্যে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এক পাকিস্তানি যুবক, ৩১ বছর বয়সী এক ভারতীয় এবং ২৮ বছর বয়সী এক নাইজেরীয় নাগরিক। সৌভাগ্যবশত, হামলাকারীরা ‘প্যালেট গান’ বা সীসার ছোট দানা ব্যবহৃত এয়ারগান দিয়ে গুলি করায় আহতদের কারো আঘাতই প্রাণঘাতী ছিল না। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার তদন্ত করছে ফ্রাসকাতি (Frascati) এলাকার ক্যারাবিনিয়েরি পুলিশ। তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হামলার উদ্দেশ্য বা মোটিভ। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ (Punitive Expedition) হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও আহতরা জানিয়েছেন যে, গুলি করার সময় হামলাকারীরা কোনো ধরনের বর্ণবাদী গালিগালাজ বা স্লোগান দেয়নি, তবুও বেছে বেছে কেবল বিদেশিদের ওপর আক্রমণ করায় বর্ণবিদ্বেষের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাতে হামলাকারীরা আরও অনেক ইতালীয় পথচারীর মুখোমুখি হলেও কেবল বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করেই তাদের অস্ত্র চালিয়েছে।
পুলিশ আরও আশঙ্কা করছে যে, ওই রাতে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক সম্ভবত এই আক্রমণের শিকার হয়েছেন, যারা ভয়ে বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় এখনো পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেননি কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি। তদন্তকারী দল বর্তমানে ওই সব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং সেই রহস্যময় হালকা রঙের গাড়িটির সন্ধান চালাচ্ছে।
রোমের পূর্ব উপকণ্ঠে প্রচুর বাংলাদেশি অভিবাসীর বসবাস রয়েছে। বিশেষ করে ‘তোর সাপিয়েনজা’ ও ‘তোরে আনজেলা’র মতো এলাকাগুলোতে দক্ষিণ এশীয়দের যাতায়াত বেশি। যদিও এবারের হামলায় কোনো বাংলাদেশি সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘ঘৃণা প্রসূত অপরাধ’ (Hate Crime) হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ইতালীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসীদের সুরক্ষায় এবং এই ধরনের অরাজকতা রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
পূর্ব রোমে গাড়ি থেকে গুলিতে চার অভিবাসী আহত; সম্ভাব্য বর্ণবিদ্বেষের দিকটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
romatoday


