স্থায়ী চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয়তায় দেশটিতে মোট কর্মসংস্থান ২ কোটি ৪৩ লাখ ছাড়িয়েছে; নিষ্ক্রিয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে নামল ৩৩ শতাংশে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতালির শ্রমবাজারে লক্ষণীয় গতিশীলতা দেখা গেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইস্তাতের (Istat) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদে নতুন করে ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ফলে দেশটিতে বর্তমানে মোট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৩ হাজারে। কর্মসংস্থান বাড়ার এই ধারা মূলত স্থায়ী চুক্তির চাকরির হাত ধরে এসেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের প্রান্তিকের চেয়ে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এর বড় অংশই এসেছে স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট মেয়াদি চুক্তিভিত্তিক (tempo indeterminato) চাকরি থেকে। এই খাতে নতুন করে ১ লাখ ২০ হাজার কর্মী যুক্ত হয়েছেন, যা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদি বা অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী বেড়েছে ১৮ হাজার এবং স্বাধীন পেশাজীবী বা স্বনিয়োজিত (indipendenti) কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৭ হাজার।
বার্ষিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিগত ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় কর্মসংস্থান বেড়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার বা ১ শতাংশ। এই এক বছরে স্থায়ী চাকরিজীবী এবং স্বনিয়োজিত উদ্যোক্তার সংখ্যা যথাক্রমে ১ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও অস্থায়ী কর্মসংস্থান কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের জাতীয় হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে।

শ্রমবাজারে সক্রিয়তার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সক্রিয়ভাবে কাজ খোঁজা বেকারের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বেকারত্বের হার সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে একই সময়ে কর্মক্ষম কিন্তু কর্মহীন থাকা ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নিষ্ক্রিয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে। এই প্রান্তিকে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে সরাসরি শ্রমবাজারে যুক্ত হয়েছেন, যার কারণে সার্বিক নিষ্ক্রিয়তার হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বার্ষিক হিসাবে ইতালিতে বেকারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার বা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাজের মোট ঘণ্টা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মোট কর্মীদের মধ্যে খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম চাকরির অংশ দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে। এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারী এজেন্সির মাধ্যমে কর্মসংস্থান (somministrazione) বার্ষিক ৩ শতাংশ এবং অনিয়মিত কাজের চুক্তি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে শিল্প সংকটে রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা বা ‘কাসা ইন্তেগ্রাসিওনে’র (cassa integrazione) ওপর নির্ভরতা কমে প্রতি এক হাজার কর্মঘণ্টায় ৬ দশমিক ২ ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্ণকালীন সমমানের কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ব্যয় বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেতন বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক খাতের ব্যয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ইতালির বাজারে স্থায়ী কাজের সুযোগ ও সামাজিক সুরক্ষার এই বিস্তার প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীসহ সামগ্রিক বিদেশি অভিবাসীদের জীবিকায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতালিতে কর্মসংস্থান ১ লাখ ৫৫ হাজার বেড়ে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৩ হাজারে পৌঁছেছে; কর্মসংস্থান হার ৬৩.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ansa


