পূর্ব লিবিয়া থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপ যাত্রাকালে গ্রিসের সমুদ্রসীমায় চারটি পৃথক তৎপরতা চালানো হয়; উদ্ধারপ্রাপ্তদের তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকসহ নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে।
গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপ ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে একদিনেই চারটি পৃথক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৩৫ জন অনিয়মিত অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিরাপদে সরিয়ে এনেছে দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রন্টেক্স। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী গাভদোস দ্বীপের দক্ষিণ সমুদ্রসীমা থেকে শুরু করে হেরাক্লিয়ন ও লাসিথির দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এসব সমন্বিত তৎপরতা চালানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলোর তথ্যমতে, প্রথম উল্লেখযোগ্য অভিযানটি পরিচালিত হয় গাভদোসের দক্ষিণাংশের উন্মুক্ত সাগরে। সেখানে একটি ভাসমান নৌযান শনাক্ত করে ফ্রন্টেক্সের টহল জাহাজ। পরবর্তী সময়ে হেলেনিক কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় নৌযানটিতে থাকা ৬৩ জন পুরুষ, দুইজন নারী ও দুই শিশুসহ মোট ৬৭ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের পালাইওখোরার তিগানি বন্দরে নামানোর পর চানিয়া সেন্ট্রাল পোর্ট কর্তৃপক্ষের পাহারায় বিশেষ বাসে করে আগিয়ার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এর আগে গ্রিসের যৌথ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কালই লিমেনেসের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত অপর একটি নৌযান থেকে আরও ৬৭ জনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড, যাদের মধ্যে ৬৫ জন পুরুষ ও দুটি শিশু ছিল। ফাইস্তোস পুলিশের সহায়তায় তাদের হেরাক্লিয়ন বন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সমুদ্রের পাশাপাশি উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানো আরও দুটি দলকেও হেফাজতে নিয়েছে গ্রিক প্রশাসন। কালই লিমেনেস সংলগ্ন সারি ফোরাদা সৈকত থেকে ৪৭ জন পুরুষ ও চার শিশুসহ ৫১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বিশেষ মিশন ইউনিট ও ভিয়ান্নোস পুলিশের পাহারায় তাদের হেরাক্লিয়ন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিবাসী পরিবহনে ব্যবহৃত নৌযানটি নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি আউটবোর্ড ইঞ্জিন আলামত হিসেবে জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ইয়েরাপেত্রার কলোভ্রেখতিস সৈকতে একটি ফোলানো রবার বোট থেকে তীরে নামার পরপরই ৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে স্থানীয় অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে পাঠায় কোস্টগার্ড। প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনি তদন্ত শুরু করেছে।

উপকূলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি মানবপাচারকারী চক্রগুলো পূর্ব লিবিয়াকে কেন্দ্র করে ক্রিট দ্বীপমুখী এই বিপজ্জনক নৌপথটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষ পাচারকারীদের দেওয়া নড়বড়ে নৌকায় চড়ে ক্রিট দ্বীপে অবতরণ করেছেন। সব মিলিয়ে এ বছর গ্রিসজুড়ে মোট অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজারে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গ্রিসেই সর্বাধিকসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেছেন। ইতালিতে সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা গ্রিসের তুলনায় কিছুটা কম হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিসিলি দ্বীপে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের পুরো সময়ে গ্রিক জলসীমায় প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেছিলেন। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এই প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ ক্রিটে পৃথক চারটি অভিযানে একদিনে ২৩৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও ফ্রন্টেক্স, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
infomigrants


