প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে অভিবাসীদের পাঠানো আটকাতে জাল স্বাস্থ্য সনদ তৈরির অভিযোগে রাভেনা প্রসিকিউশনের নির্দেশে দেশজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে; তবে সরাসরি তদন্তের আওতায় না থাকা চিকিৎসকদের ‘অপরাধীদের মতো’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবীরা।
ইতালিতে অবস্থানরত অনিয়মিত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে ভুয়া মেডিকেল সনদ তৈরির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশটির অন্তত নয়টি শহরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রাভেনা শহরের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় (Procura di Ravenna)-এর জারিকৃত তল্লাশি আদেশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রোমের সেন্ট্রাল অপারেশন সার্ভিস (SCO) এবং রাভেনার স্কোয়াড্রা মবিলের (Squadra Mobile) বিশেষ দল একযোগে বিশ জনেরও বেশি চিকিৎসকের বাসভবন, কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যাপক তল্লাশি পরিচালনা করে।
তদন্তকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী রোম এবং বাণিজ্যিক নগরী মিলান ছাড়াও বারি, বিয়েল্লা, বলোনিয়া, ফ্লোরেন্স, লিভোরনো, রিমিনি ও ভারেসে শহরে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর এই বিচার বিভাগীয় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন বিদেশি নাগরিকদের ইতালির প্রত্যাবাসন আটক কেন্দ্র বা সিপিআর (Centri di Permanenza per il Rimpatrio)-এ স্থানান্তর আটকাতে চিকিৎসকেরা যোগসাজশে মিথ্যা অসুস্থতার প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করছিলেন। আইনগতভাবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের এই কেন্দ্রে রাখা যায় না—এই সুযোগটি ব্যবহার করতেই ভুয়া সনদ তৈরি করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া তল্লাশির আওতায় আসা চিকিৎসকদের সিংহভাগই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলার প্রাথমিক তদন্ত তালিকায় (registro degli indagati) অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত নন।

এই বিস্তৃত অভিযানটি মূলত কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া একটি আলোচিত তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ। সে সময় সরকারি কৌঁসুলি অ্যাঞ্জেলা স্কোরজার (Angela Scorza) নির্দেশে রাভেনা হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের (Reparto Malattie Infettive) আটজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ৩৪টি ভুয়া মেডিকেল সনদ ইস্যু করার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছিল পুলিশ। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তকারী বিচারক ফেদেরিকা লিপোভচেক (Federica Lipovscek)-এর আদেশে তিনজন চিকিৎসককে ১০ মাসের জন্য পেশাগত কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং বাকি চিকিৎসকদের জন্য সিপিআর সংক্রান্ত কোনো প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এদিকে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের ছাড়া শুধু তথ্যানুসন্ধানের নামে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন আকস্মিক ও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপে ইতালির চিকিৎসকমহল ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযানের মুখে পড়া পাঁচজন চিকিৎসকের আইনজীবী ফাবিও আনসেলমো (Fabio Anselmo) সংবাদ সংস্থা আনসাকে (ANSA) দেওয়া বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র নেই, পুলিশ তাদের সাথে ‘মাফিয়া অপরাধীদের’ মতো আচরণ করেছে। ভোর ছয়টার আগেই চিকিৎসকদের বাসায় গিয়ে ঘুম থেকে তুলে থানায় (Questura) নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়। এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশের চেয়ে রাভেনা প্রসিকিউশনের অতি-উৎসাহী সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেন তিনি।
ইতালি সরকার যখন অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কারের নিয়মকানুন ক্রমাগত কঠোর করছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে এই পুলিশি অনুসন্ধান দেশটিতে নতুন আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রত্যাবাসন এড়াতে অভিবাসীদের চিকিৎসাগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এই অভিযানের ফলে ভবিষ্যতে আরও সীমিত ও কঠোর নজরদারির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাভেন্না প্রসিকিউটরেটের তদন্তে অবৈধ অভিবাসীদের সিপিআরে পাঠানো ঠেকাতে ভুয়া চিকিৎসা সনদ দেওয়ার অভিযোগে ৯ শহরের ২০টিরও বেশি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
rainews


