তুরিনে কিশোরীকে যৌন হেনস্তার মামলায় জামিন বাতিল: বাংলাদেশি কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

4 Min Read

ইতালির তুরিনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটক এক ব্যক্তির জামিন আদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় পুনর্বিবেচনা আদালত; তবে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে গড়াতে পারে।

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত ৪২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি বিক্রয়কর্মীর জামিন বাতিল করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় পুনর্বিবেচনা আদালত (ত্রিবুনালে দেল রিয়েজামে)। এর আগে প্রাথমিক বিচারক ওই ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিলে বিষয়টি নিয়ে পুরো ইতালির বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, সরকারি কৌঁসুলি বা প্রসিকিউটর এলোনোরা শরেল্লার আপিলের প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রাথমিক তদন্ত বিচারক (জিপ) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তিনি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে প্রতিদিন থানায় উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর (ওব্বলিগো দি ফিরমা) দেওয়ার শর্তে মুক্তির আদেশ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর আপিল করেন, যেখানে আসামির পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকির কথা শক্তভাবে তুলে ধরা হয়। তবে আদালতের এই নির্দেশনা এখনই কার্যকর হচ্ছে না; আসামিপক্ষ চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতালির সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্টে দি ক্যাসাসিওনে’-তে আপিল করার সুযোগ পাবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট তুরিনের উপকণ্ঠবর্তী বোর্গো ভিত্তোরিয়া এলাকার একটি মিনিমার্কেটে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী তার ভাইদের জন্য কোমল পানীয় কিনতে দোকানে প্রবেশ করলে ওই বিক্রয়কর্মী তাকে আপত্তিকরভাবে যৌন হেনস্তা করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় চরম আতঙ্কিত ও মানসিক ট্রমার শিকার হয়ে কিশোরীটি দোকান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশি তদন্তে আরও জানা গেছে, কিশোরীটিকে উত্যক্ত করার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকানে কেনাকাটা করতে আসা প্রায় ৪০ বছর বয়সী অপর এক নারীকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন। পৃথক দুই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এদিকে প্রাথমিক আদালত থেকে আসামির মুক্তির ঘটনাটি ইতালিতে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নেয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি স্বয়ং বিচারকের ওই আদেশের তীব্র সমালোচনা করেন। ক্ষোভের মুখে বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও পুরো প্রক্রিয়ার তদন্তে বিচারিক পরিদর্শক দল পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নারী বিচারককে একের পর এক হুমকি দেওয়া হতে থাকলে তুরিনের স্থানীয় প্রিফেকচার তার সার্বক্ষণিক সুরক্ষায় বিশেষ পুলিশি নজরদারি জারি করে।

পুনর্বিবেচনা আদালতের শুনানিকালে আসামির আইনজীবী ফ্রান্সেস্কা দুরজো অভিযুক্তের পক্ষ থেকে একটি লিখিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদালতে দাখিল করেন। এতে ৪২ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি প্রবাসী নিজের অপরাধের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে তিনি সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসার মতো কোনো কাজ করবেন না এবং প্রয়োজনে রেস্তোরাঁয় থালাবাসন ধোয়ার (ডিশওয়াশার) মতো অপ্রকাশ্য কাজ বেছে নেবেন। একই সাথে তিনি উচ্ছৃঙ্খল পুরুষদের জন্য পরিচালিত বিশেষ আচরণগত পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সম্মতিও প্রকাশ করেন।

আদালতের এই নতুন আদেশকে স্বাগত জানিয়ে তুরিনের সিনেটর পাওলা আমব্রোজিও মন্তব্য করেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিচার বিভাগের ওপর নাগরিকদের ক্ষুণ্ণ হওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তুরিনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মীকে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত; তবে আপিলের সুযোগ থাকায় সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক কার্যকর নয়।

ansa

Share This Article