রোমে ট্রাফিক আটকে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করায় তুর্কি নাগরিককে মারধর, ভিডিও প্রকাশ করে সালভিনির কড়া হুঁশিয়ারি

3 Min Read

ইতালির রাজধানীতে এক বারে ভাঙচুর ও রাস্তায় তাণ্ডব চালানোর পর ক্ষুব্ধ চালকের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে পড়েন ৩৯ বছর বয়সী এক তুর্কি নাগরিক; ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জড়িত অপরাধীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।

ইতালির রাজধানী রোমে প্রকাশ্যে রাস্তায় তাণ্ডব চালিয়ে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত গাড়ির সামনের কাচ (উইন্ডশিল্ড) ভেঙে ফেলার পর চালকের পাল্টা মারধরের শিকার হয়েছেন এক তুর্কি অভিবাসী। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে ঘটা এই সংঘাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করে। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোমের সান জোভান্নি এলাকার পিয়াতসা রাগুসা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি মদ্যপ বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির উইন্ডশিল্ডে সজোরে আঘাত করে তা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চালক গাড়ি থেকে নেমে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকেও মারতে উদ্যত হন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বিপরীত রূপ নেয়; চালক পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে অভিযুক্ত তুর্কি নাগরিককে উপর্যুপরি আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় রাস্তায় উপস্থিত বহু পথচারী ও চালককে উল্লাস প্রকাশ করতে এবং চালকের পদক্ষেপকে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।

রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করার ঠিক আগেই ওই ব্যক্তি নিকটস্থ একটি বারে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি হঠাৎ বারে ঢুকে মারমুখী আচরণ শুরু করেন এবং কোনো উসকানি ছাড়াই এক নারী বারিস্তাকে (কফি পরিবেশক) লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছুড়ে মারেন। এছাড়া ক্যাফের টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করার পাশাপাশি সেখানে দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মীর ওপরও শারীরিক আক্রমণ চালান তিনি। সেখান থেকে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে এসেই তিনি গাড়ির ওপর চড়াও হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ বেগ পেয়ে অভিযুক্তকে বাগে আনে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি তাকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাত্তেও সালভিনি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “অগ্রহণযোগ্য এক দৃশ্য। আপনি ইতালিতে এসে সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলা ছড়াবেন? আমাদের দেশ থেকে অবিলম্বে বিদায় হোন।”

ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসন এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। সালভিনির এই মন্তব্যের পর স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়মিত আইন মেনে চলা সাধারণ অভিবাসীদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রবাসীদের সামাজিক ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমানে আটক ওই তুর্কি নাগরিকের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস এবং শারীরিক হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


রোমে সহিংসতার ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী এক তুর্কি নাগরিক গ্রেপ্তার; অভিযোগ, বারকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীকে হামলা এবং গাড়ির ক্ষতি করেন। ঘটনায় ইতালিতে অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

romatomorrow

Share This Article