ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন বাড়লেও খারিজ হচ্ছে ৯৭ শতাংশ: ইইউইএএ

4 Min Read

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ; তবে ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকায় থাকায় সিংহভাগ আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সার্বিক আবেদন কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে। এই সময়ে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও এর প্রায় ৯৭ শতাংশই বাতিল হয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা (ইইউইএএ) প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত সংস্থাটির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশসহ সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে মোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৫৮টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ কম। মূলত ২০২১ সালের পর কোনো ছয় মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন আবেদনের রেকর্ড। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিরিয়ায় চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের গতিপ্রকৃতিতে রূপান্তর এবং বিভিন্ন উৎস ও ট্রানজিট দেশের সঙ্গে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়ের ফলেই সামগ্রিক আবেদনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের জাতীয়তার হিসাবে এখনও শীর্ষে অবস্থান করছেন আফগান নাগরিকরা। বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৯ হাজার আফগান নাগরিক সুরক্ষা চেয়েছেন, যদিও ২০২৫ সালের শীর্ষ রেকর্ডের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা কমেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা; তারা করেছেন প্রায় ৩৩ হাজার আবেদন—যা গত বছরের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম এবং যার প্রায় সবই স্পেনে জমা পড়েছে। এর পরই উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও তাদের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ কার্যত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিমালায় বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ উৎস দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় এই নাগরিকদের আবেদনগুলো সাধারণ প্রক্রিয়ার বদলে দ্রুততর বা ‘অ্যাক্সিলারেটেড’ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে। ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদনের মাত্র ৩ শতাংশ গৃহীত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৯৭ শতাংশ আবেদনই সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপে জমা পড়া মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই পেয়েছে শীর্ষ চারটি দেশ। এর মধ্যে ফ্রান্সে সর্বোচ্চ প্রায় ৬৯ হাজার, ইতালিতে ৬৬ হাজার, স্পেনে ৫৫ হাজার এবং জার্মানিতে ৫৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আবেদন মঞ্জুরের গড় হার ছিল ৩১ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ২৯ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে বছরের দ্বিতীয় ভাগে এই হার পুনরায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত ১২ জুন কার্যকর হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তির ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা ছাড়া অনিয়মিত পথে আসা ব্যক্তিদের সরাসরি ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না দিয়ে বহিঃসীমান্তের অপেক্ষমাণ এলাকায় রাখা হচ্ছে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালি, গ্রিস ও স্পেনের মতো দেশগুলোতে বহিঃসীমান্তে এবং অন্যান্য দেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা বন্দরে এই যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাদের দ্রুত সীমান্ত থেকেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কঠোর প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে।


২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইইউতে আশ্রয় চেয়েছেন; আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে নিরাপদ দেশ হিসেবে মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন গৃহীত, ৯৭ শতাংশই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

infomigrants

Share This Article