একটি মুসলিম প্রার্থনা কেন্দ্র সংস্কারকালে নিচে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৬৩ বছর বয়সী ওই প্রবাসী; কাজের বৈধতা ও নিরাপত্তা বিধিমালার ঘাটতি খতিয়ে দেখছে রোম প্রসিকিউশন।
ইতালির রাজধানী রোমে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফের এক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শহরের একটি নির্মীয়মাণ মুসলিম উপাসনালয়ে রঙ করার সময় মই থেকে নিচে পড়ে গিয়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে সরাসরি শক্ত মেঝেতে পড়ার কারণে তাঁর মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং মস্তিষ্কে মারাত্মক রক্তক্ষরণ (cerebral hemorrhage) শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে রোমের পূর্ব অংশের ভিলা গোর্দিয়ানি (Villa Gordiani) এলাকার ভিয়া প্রেনেস্তিনা (Via Prenestina) ৩৫৯ নম্বর ভবনে। সেখানে একটি বাণিজ্যিক ভবনকে সংস্কার করে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে রূপান্তরের কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে ইতালীয় সামরিক পুলিশ কারাবিনিয়েরি (Carabinieri) এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ‘১১৮’-এর (118) প্যারামেডিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রোমের সান জোভান্নি (San Giovanni) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (prognosi riservata) রাখা হয়েছে।

আহত শ্রমিকের বয়স ৬৩ বছর (জন্ম ১৯৬২ সাল) এবং তিনি ইতালিতে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি নাগরিক। রোমে একের পর এক কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর মাত্র কিছুদিন আগেই ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে (Colosseum) কাজ করার সময় আন্দ্রেয়া মোরেত্তি (Andrea Moretti) নামের ২২ বছর বয়সী এক ইতালীয় তরুণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোক ও ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বয়োজ্যেষ্ঠ এক অভিবাসী শ্রমিকের এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা শহরটিতে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নেমেছে রোমের ইনভেস্টিগেটিভ কারাবিনিয়েরি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শ্রম পরিদর্শন বিভাগ (ASL)। প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি জব্দ ও সিলগালা করা হয়েছে এবং ভবনটি আইনি হেফাজতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভবনটির মালিকও একজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পরিদর্শকরা খতিয়ে দেখছেন, রাতের বেলা প্রয়োজনীয় আলো, উপযুক্ত হেলমেট বা সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে কাজে লাগানো হয়েছিল কি না।
এদিকে রোমের পিয়াতসা ক্লোদিওর (Piazzale Clodio) সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহকারী প্রধান প্রসিকিউটর আন্তোনিনো দি মাইও-এর (Antonino Di Maio) তত্ত্বাবধানে প্রসিকিউটর মারিও ডোভিনোলা (Mario Dovinola) দায়িত্বহীনতা ও অবহেলাজনিত কারণে গুরুতর শারীরিক জখমের (lesioni personali colpose) অভিযোগে ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন আহত বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নিয়মিত ও বৈধ চুক্তিপত্র ছিল কি না এবং ইতালির কঠোর কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা আইন (safety regulations) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
রোমের ভিয়া প্রেনেস্তিনায় রং করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে ৬৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত; হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, তদন্ত চলছে।
romatoday


