ভূমধ্যসাগরে আটক হয়ে দীর্ঘদিন বন্দি থাকা নাগরিকদের আইওএম-এর সহযোগিতায় ঢাকায় ফেরত; ত্রিপলী, মিসরাতা ও বেনগাজী থেকেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদারের উদ্যোগ।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর কুখ্যাত তাজউরা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন বন্দি জীবন কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরে এসেছেন ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর প্রত্যক্ষ মানবিক সহায়তা এবং ত্রিপলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতায় তাঁদের সফলভাবে মুক্ত করে নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় মুক্ত হওয়া এই বাংলাদেশি নাগরিকরা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে ০১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ০৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশের মাটিতে অনিশ্চয়তা ও বন্দিদশায় কাটানো অভিবাসীদের দেশে ফেরার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় নৌপথে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে এসব ব্যক্তি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সেই সময় সমুদ্রসীমা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন তাঁরা। পরবর্তীতে তাঁদের ত্রিপলীর তাজউরা বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁদের আইনি মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে।

প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিবাসীদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের লিবিয়া ত্যাগের প্রাক্কালে রাজধানী ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দূতাবাসের একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি দল সশরীরে উপস্থিত ছিল। বিমানবন্দরে দলটি এসব অভিবাসীর ট্রাভেল পারমিট, বহির্গমন ছাড়পত্র এবং ফ্লাইটে আরোহণের প্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সরাসরি নিশ্চিত করে।
এদিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য অনিয়মিত ও আটকে পড়া নাগরিকদের বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে শুধু ত্রিপলী নয়, বরং মিসরাতা ও বেনগাজীর মতো বড় শহরগুলোতেও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী, তাঁদের দ্রুত স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মানবিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচিকে বেগবান রাখতে সংশ্লিষ্ট লিবীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অব্যাহত সহযোগিতায় অদূর ভবিষ্যতেই ত্রিপলী, মিসরাতা ও বেনগাজী থেকে স্বেচ্ছায় ফিরতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইট পরিচালনা করে তাঁদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৮ বাংলাদেশিকে দূতাবাস ও আইওএমের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন করা হয়েছে; তারা ১ অক্টোবর ২০২৬ ভোরে ঢাকায় পৌঁছান।
Embassy of Bangladesh in Libya


