জনগণের বাস্তব সংকট আড়াল করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকার নির্বাচনী বিধিমালা পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লাইন; প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী প্রগ্রেসিভ জোট।
ইতালির পার্লামেন্টে ডানপন্থী জোট সরকারের প্রস্তাবিত নতুন নির্বাচনী আইন সংস্কারকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডি) সাধারণ সম্পাদক এলি শ্লাইন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা উপেক্ষা করে সরকার কেবল নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নির্বাচনী নিয়ম বদলাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রস্তাবিত এই নির্বাচনী বিলের ওপর আয়োজিত ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অংশ নিয়ে শ্লাইন জানান, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এই আইনের বিপক্ষে বিরোধীরা দৃঢ়তার সাথে ‘না’ ভোট দেবে।
ভাষণে এলি শ্লাইন অভিযোগ তোলেন, গত পাঁচ মাস ধরে দেশজুড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করলেও ক্ষমতাসীন জোট কেবলমাত্র নির্বাচনী আইন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিলানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৩ ইউরো স্পর্শ করেছে এবং নাগরিকদের ওপর করের বোঝা গত এক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এছাড়া কাম্পি ফ্লেগ্রেই (Campi Flegrei) অঞ্চলের ভূমিকম্পে বাস্তুহারা প্রায় ৬ হাজার মানুষ পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা রাজপথে নেমেছেন। এসব বাস্তব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সরকার বড় তেল কোম্পানি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের মুনাফা রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরকারের অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, জননিরাপত্তা রক্ষায় যখন সারা দেশে পুলিশ বাহিনীর তীব্র সংকট চলছে, তখন পুলিশ নিয়োগ না দিয়ে আলবেনিয়ার বন্দিশিবিরে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরো অপচয় করা হচ্ছে [1]। পাশাপাশি অডিট আদালত বা কোর্তে দেই কোন্তি (Corte dei Conti) কর্তৃক স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও মেসিনা প্রণালীর সেতু (Ponte sullo Stretto di Messina) নির্মাণ প্রকল্পে ১৩ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে রাষ্ট্রীয় অর্থের চরম অপচয় আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব হলেও সরকারের সেদিকে কোনো নজর নেই।
প্রস্তাবিত নির্বাচনী আইনের সাংবিধানিক ঝুঁকি তুলে ধরে শ্লাইন বলেন, সরাসরি সংবিধান সংশোধন না করে সাধারণ আইনের মারফতে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা বা ‘প্রেমিয়েরাতো’ (Premierato) কায়েমের অপচেষ্টা চলছে। এই আইনে এমন এক অস্বাভাবিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বোনাস রাখা হয়েছে, যা বিজয়ী দলকে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে। নতুন বিধিতে ভোটারদের সরাসরি পছন্দের সুযোগ কমিয়ে রাখা হয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরাই মূলত সংসদে আসার সুযোগ পাবেন। উপরন্তু, নারীদের প্রতিনিধিত্বের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন দলগুলোর নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৩ লাখ ৭২ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
শ্লাইন দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়েই মেলোনি সরকার খেলার মাঝপথে নিয়ম বদলানোর পথ বেছে নিয়েছে। সরকারের মূল নীতিকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ নয় বরং ‘ক্ষমতা ও পদমর্যাদা রক্ষা করাই সরকারের আসল অগ্রাধিকার’। পরিশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সরকার এককভাবে যেকোনো নির্বাচনী আইন চাপিয়ে দিলেও ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়লাভ করে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনবে।
ইতালির বিরোধী নেত্রী এলি শ্লেইন মেলোনি সরকারের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আইনের বিরোধিতা করে অভিযোগ করেছেন, সরকার জনজীবনের সংকট উপেক্ষা করে ক্ষমতা ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করছে।
prefettura.interno


