ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্রের বৈশ্বিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং চিত্রশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়নে স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক; বাস্তবায়িত হবে ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্প।
বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির অন্যতম বর্ণিল উপাদান ঐতিহ্যবাহী রিকশাচিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে হাত মিলিয়েছে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ইউনেস্কো কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তিতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কার্যালয় প্রধান সুসান ভাইজ এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিংয়ের চিফ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার শিউমন পাটোয়ারী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান কিজি তাহনিন, কালচারাল প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট বিপাশা ত্রিপুরা এবং উইন্ডমিলের অপারেশনস অ্যান্ড ক্লায়েন্ট সার্ভিস ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান রাব্বি।
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, রিকশাচিত্র মূলত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যা শিল্পীদের নিজস্ব জ্ঞান, নিপুণ দক্ষতা এবং সৃজনশীলতার ওপর ভর করে টিকে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উইন্ডমিলের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রিকশাচিত্র শিল্পীদের জীবিকার সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে এ সংক্রান্ত কারিগরি দক্ষতা হস্তান্তরে সহায়তা করা হবে, যেন এই ঐতিহ্যবাহী ধারাটি ভবিষ্যতেও একইভাবে প্রাণবন্ত থাকে।
অন্যদিকে উইন্ডমিলের কৌশলগত পরিকল্পনাকারী শিউমন পাটোয়ারী জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের রিকশাচিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এর কারিগরদের জন্য সময়োপযোগী নতুন সুযোগ ও দিগন্ত তৈরি করা। সৃজনশীল যোগাযোগ মাধ্যম, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাণিজ্যিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে এই অনন্য শিল্পকে বিশ্বব্যাপী আরও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর মানবতার অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (Intangible Cultural Heritage of Humanity) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি লাভ করে। সেই বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে এগিয়ে নিতে এবং ঐতিহ্যটির নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বজায় রেখে শিল্পীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করবে উভয় প্রতিষ্ঠান।
এই যৌথ অংশীদারিত্বের আওতায় ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ শীর্ষক একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের অধীনে রিকশাচিত্রের সঙ্গে জড়িত শিল্পীদের জন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি এই শিল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়াতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে শিল্পীদের কাজের সরাসরি সংযোগ স্থাপন, বৃহৎ পরিসরে প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে উইন্ডমিলের ডিজিটাল প্রচার ও জনসংযোগের দক্ষতাকে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ শিল্পীদের কৌশল ও দক্ষতা নথিবদ্ধ করে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে চিত্রশিল্পীদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব দৃশ্যভাষা ও সৃজনশীলতার গল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপিত হবে।
ইউনেস্কো ও উইন্ডমিলের ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও ব্র্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রিকশাচিত্রের বৈশ্বিক প্রচার এবং শিল্পীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
thedailystar


